img

গ্রামীণ এলাকায় হিমাগার স্থাপনে ডাচ সরকারের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ০৬:৫৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গ্রামীণ এলাকায় হিমাগার স্থাপনে ডাচ সরকারের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের গ্রামে হিমাগার সুবিধা স্থাপনের জন্য নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সহযোগিতা চান তিনি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের মৌসুমে নষ্ট হতে থাকা কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা সহজ হবে।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ দ্রুত বর্ধনশীল ফল ও শাকসবজি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু ফসলের মৌসুমে স্থানীয় বাজারে প্রচুর পরিমাণে পণ্য আসায় দাম হঠাৎ করে পড়ে যায়। এর ফলে লাখ লাখ ক্ষুদ্র কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। গ্রামীণ এলাকায় স্বল্পমেয়াদী হিমাগার সুবিধার অভাবে তারা তাদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস কৃষি প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতা। আমাদের প্রয়োজন আপনার দেশের আধুনিক প্রযুক্তি, যাতে আমরা আমাদের ফল ও শাকসবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারি। এছাড়া, আপনারা চাইলে আমাদের কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার জন্য গবেষক ও বিজ্ঞানী পাঠাতে পারেন।’

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘প্রতিবছর বাংলাদেশে মূলত সংরক্ষণের অভাবে হাজার হাজার টন ফল ও শাকসবজি নষ্ট হয়। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা জাতীয় ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য উন্নত সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও কার্যকর লজিস্টিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।’

অধ্যাপক ইউনূস নেদারল্যান্ডসের পানি ব্যবস্থাপনা, নদী ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক প্রযুক্তিতে নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা চাই নেদারল্যান্ডস আমাদের জলবায়ু ও পানি ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র গবেষণা এবং বাংলাদেশের নদীগুলোকে নৌগমনযোগ্য রাখার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।’

ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার উত্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জবাবে বলেন, ‘আমি উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করব। এছাড়া, আমরা বস্ত্র খাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণ করতে আগ্রহী।’

বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম, মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির বিষয়েও আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘তথ্যবিকৃতির ভয়ঙ্কর এই ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া আমরা এর বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়তে পারব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৫ বছরের স্বৈরশাসনের সময়ে প্রকৃতপক্ষে কোনো নির্বাচন হয়নি, শুধু ভুয়া নির্বাচন হয়েছে। বর্তমান সময়ে আগের শাসকদের ঘনিষ্ঠরা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।’

প্রধান উপদেষ্টা তার সরকারের পক্ষ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রস্তুতির জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়তায় তিনি এবং ছয়জন রাজনৈতিক নেতা নিউইয়র্ক সফর করছেন।

ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ তরুণ এখন ভোট দিতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে অনেকে এখনও ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।’

ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো গভীর উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি বিশ্বের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এর বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।

 সূত্র: বাসস


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

img

আইআরজিসির হয়ে বিলিয়ন ডলারের শ্যাডো ব্যাংকিং চালাচ্ছে দুই ব্রিটিশ কোম্পানি

প্রকাশিত :  ০৯:৪৯, ০৮ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০২, ০৮ মার্চ ২০২৬

ব্রিটেনের দুটি কোম্পানি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বৈশ্বিক ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ বা সমান্তরাল ব্যাংকিং কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে, লন্ডনে নিবন্ধিত এই কোম্পানি দুটি মূলত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের ফ্রন্ট কোম্পানি হিসেবে কাজ করছে, যারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ‘জেডসেক্স এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedcex Exchange Ltd) এবং ‘জেডক্সিওন এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedxion Exchange Ltd) নামের এই প্রতিষ্ঠান দুটি লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেন এলাকার একটি বিলাসবহুল ভবনের ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধিত। নথিপত্রে এদের ব্যবসা ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো ভৌত অস্তিত্ব নেই। 

মার্কিন অর্থ দপ্তরের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী অফিস (OFAC) চলতি বছরের শুরুতেই কোম্পানি দুটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জানিয়েছে, জেডসেক্স ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করেছে, যার বড় অংশই আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এই কোম্পানি দুটি ইরানি ধনকুবের বাবাক জানজানির সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনে অর্থ সহায়তার দায়ে জানজানির ওপর আগেই ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ব্লকচেইন গোয়েন্দা সংস্থা টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত ওয়ালেট ও অফশোর মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে শত কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে। ওএফএসি-র মতে, কোম্পানিগুলো সরাসরি আইআরজিসি-কে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও বস্তুগত সহায়তা প্রদান করে আসছিল।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার চাপ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের শ্যাডো ন্যাশনাল সিকিউরিটি মিনিস্টার অ্যালিসিয়া কার্নস প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ব্রিটিশ মাটি ও আইন ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক একটি সংগঠনকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই কোম্পানি দুটি এবং আইআরজিসি-র ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সরকারের এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৮ সালে সুইফট ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ইরান বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই দেশটি ‘হাওলা’ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে সমান্তরাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে তাদের সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন নিশ্চিত করছে।

যদিও কোম্পানি দুটির নিবন্ধিত ঠিকানার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিএসকিউ গ্রুপ’ জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পর তারা কোম্পানি দুটির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই মুহূর্তে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর