img

চায়ের রাজধানীতে রঙ্গিন আনন্দযাত্রা: শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ চাঁদের গাড়ি

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:১৮, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

চায়ের রাজধানীতে রঙ্গিন আনন্দযাত্রা: শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ চাঁদের গাড়ি

সংগ্রাম দত্ত: চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল আজ দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। সবুজে মোড়ানো টিলা-পাহাড়, বিস্তীর্ণ চা-বাগান, হাওর, বনাঞ্চল এবং আনারস–লেবু–কাঠালের বাগান মিলিয়ে এই শহরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক বিস্তৃত ভূবন। পর্যটন বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট ও আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা আবাসন, যা প্রতি বছর আকর্ষণ করে দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক ভ্রমণপিপাসুকে।

এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগের অভিজ্ঞতাকে আরও রঙিন ও প্রাণবন্ত করে তুলছে শ্রীমঙ্গলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘চাঁদের গাড়ি’। প্রতিদিন সকাল থেকেই শহরের চৌমুহনা, রেলস্টেশন ও স্টেশন রোড এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে রঙিন বাহনগুলো—অপেক্ষায় থাকে পর্যটকদের আনন্দযাত্রার।

চাঁদের গাড়িতে চড়ে ঘুরে দেখা যায় চা-বাগানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, সবুজের আলিঙ্গনে পাহাড়–টিলা, জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাইক্কা বিলসহ শহরের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। স্বল্প খরচে পরিবার, শিশু কিংবা গ্রুপ ট্যুরের জন্য এটি এখন সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ ও উপভোগ্য ভ্রমণ সুবিধা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গলে এখন ভ্রমণ মানেই চাঁদের গাড়িতে রঙিন এক স্মরণীয় আনন্দযাত্রা।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর