img

জামায়াতের কৌশলে ম্লান জয়শঙ্করের ঢাকা সফর

প্রকাশিত :  ০৮:৫৫, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩১, ০১ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতের কৌশলে ম্লান জয়শঙ্করের ঢাকা সফর

সাইফুল খান 

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে ধরা হয়েছিলো দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে শোক জানাতে এসে বিএনপি সভাপতি জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত শোকবার্তাও দিয়েছেন। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় স্তরে সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা পাঠানোর একটি প্রচেষ্টা, বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর ভারতে-বাংলাদেশে সম্পর্কের টোন পুনরায় ইতিবাচক দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা। তবে সেই প্রচেষ্টার ধার ও সিগন্যালিংয়ের প্রভাব জামায়াতের কৌশলের কারণে কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিয়ে স্বীকার করেছেন যে, তিনি এক ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে এক বৈঠক করেছেন (রয়টার্সের সংবাদটি প্রকাশিত হয় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ; মিঃ জয়শঙ্কর তখন ঢাকায়)। যা গোপন রাখা হয়েছিল ওই কূটনীতিকের অনুরোধে। তিনি (ডাঃ শফিক) আরো স্পষ্ট করে বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা তাদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ করেন, কিন্তু ভারতীয় কূটনীতিক যোগাযোগ গোপন রাখতে বলেছিলেন। একই সাথে তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন গোপন রাখতে হবে?  যেখানে সকল দেশের কুটনীতিবিদেরা প্রকাশ্যে যোগাযোগ করছেন তাদের সাথে।

এই সংবাদটি যখন বিভিন্ন দেশি পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেক প্রচারমূলক খবর কেবল “গোপন বৈঠক” এবং “ভারতীয় কূটনীতিকের নির্দেশ” ধরনের শিরোনামে উঠে আসে। এভাবে খন্ডিত বা সংক্ষিপ্ত নিউজ প্রচারের ফলে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, জামায়াত তার নিজস্ব কৌশলবোধ ছাড়াই ভারতের কথা মানছে।  এই ভুল বোঝাবুঝির চর্চা বেশি হওয়ায় পক্ষান্তরে কুটনৈতিক লাভ জামায়াতেরই বেশি হয়েছে৷

জামায়াতের কৌশলগত এই নিরবতার একটা একাডেমিক ডিপ্লোমেটিক নাম আছে, Strategic Ambiguity। Strategic Ambiguity হলো এমন একটি কৌশল। যেখানে কোনো রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তার নীতি, অবস্থান বা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ পরিষ্কার করে প্রকাশ না করে অস্পষ্ট রাখে, যাতে একাধিক সম্ভাব্য ব্যাখ্যার পথ খোলা থাকে।

এর লক্ষ্য হলো,প্রতিপক্ষকে অনিশ্চয়তায় রাখা।নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখা, একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে ভিন্ন বার্তা দেওয়া। সহজ ভাষায়, জানিয়ে না জানানো তথা স্পষ্ট না করা। আন্তর্জাতিক কুটনীতিতে এটা প্রতিষ্ঠিত ও বৈধ একাডেমিক প্রক্রিয়া।

একাডেমিকভাবে Strategic Ambiguity কোথায় ব্যবহৃত হয়?

International Relations (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) এ বহুল ব্যবহৃত হয় এই কৌশল। একটা উদাহরণ দিয়ে পরিষ্কার করি। তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে বলে না। চীন আক্রমণ করলে তারা সামরিকভাবে তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি-না। ফলে, চীন নিশ্চিত হতে পারে না, তাইওয়ানও অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে পারে না। এটাই Strategic Ambiguity-এর ক্লাসিক উদাহরণ।

Deterrence Theory (প্রতিরোধ তত্ত্ব) এর ক্ষেত্রে  এই কৌশল ব্যবহার হয়। যেমন নিউক্লিয়ার বা সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে। কতটা শক্তি ব্যবহার করা হবে, কতটুকু সীমা অতিক্রম করলে যুদ্ধ হবে। এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রাখা হয়, যাতে প্রতিপক্ষ ভুল হিসাব করতে ভয় পায়।

Strategic Communication & Signaling এর ক্ষেত্রে এই কৌশল ব্যবহৃত হয়। রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব কখনো স্পষ্ট বার্তা না দিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করে যা মিত্রদের আশ্বস্ত করে, প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে,জনমতকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

Game Theory (খেলা তত্ত্ব) তে  Strategic Ambiguity এখানে কাজ করে incomplete information পরিস্থিতিতে। যদি প্রতিপক্ষ আপনার সীমা না জানে। তবে সে ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করবে। এতে আপনার bargaining power বাড়ে।

Political Science এবং Public Policy এর ক্ষেত্রে,  ঘরোয়া রাজনীতিতে বিতর্কিত ইস্যুতে দলগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট অবস্থান নেয়। যাতে ভিন্ন ভিন্ন ভোটব্যাংক ক্ষুব্ধ না হয়। এটিও Strategic Ambiguity-এর রাজনৈতিক প্রয়োগ।

Strategic Ambiguity কেন কার্যকর?

এর সুবিধা-অসুবিধা দুটোই আছে।

সুবিধাগুলো হলো-

কৌশলগত নমনীয়তা (flexibility)।

প্রতিপক্ষের ভুল হিসাবের ঝুঁকি বাড়ানো।

অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানো।

দরকষাকষিতে শক্ত অবস্থান।

অসুবিধা হলো -

ঝুঁকি বাড়ে। ভুল ব্যাখ্যা থেকে যুদ্ধ বা সংঘাত।মিত্রদের আস্থাহীনতা। দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্যতায় ক্ষয়।

Strategic ambiguity এর ইংরেজি সংজ্ঞা হলো-  "Strategic Ambiguity is a deliberate policy of maintaining uncertainty about intentions, commitments, or red lines in order to enhance deterrence, bargaining power, and strategic flexibility."

(Strategic Ambiguity বলতে এমন একটি সচেতন কৌশলগত নীতিকে বোঝায়, যেখানে কোনো রাষ্ট্র বা পক্ষ তার উদ্দেশ্য, প্রতিশ্রুতি কিংবা ‘রেড লাইন’ সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে অনিশ্চয়তা বজায় রাখে। যার মাধ্যমে প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করা, দরকষাকষিতে কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধি করা এবং নীতিগত নমনীয়তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।)

কৌশলগত নীরবতার পেছনের কারণ

জামায়াত দীর্ঘদিন অঘোষিত এবং সর্বশেষ ঘোষিত রাজনৈতিক নিষিদ্ধ অবস্থায় ছিল। এখন আবার প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করছে, এটাই তার প্রথম স্টেজের বড় পরিবর্তন। এই অবস্থায় প্রকাশ্যে প্রতিটি কথা বলা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হতে পারত। প্রকাশ্যে না জানিয়েও যখন তারা ডিপ্লোম্যাটিক যোগাযোগ চালিয়েছে, তখন সে যোগাযোগটির প্রভাব নির্দিষ্ট পরিপ্রেক্ষিত, নির্বাচনের আগের সময় ও রাজনৈতিক পুনর্গঠন এটা বিবেচনায় নিয়েছে। এই ধাঁচটাকেই কূটনীতিতে Strategic Ambiguity বা কৌশলগত অস্পষ্টতা বলা হয়। যেখানে পক্ষগুলো নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে স্পষ্ট না রেখে সময় ও সুযোগের অনুকূলে ব্যবহার করে। জামায়াতের এই নিরবতা এবং পরবর্তীকালে তথ্য প্রকাশ সেই কৌশলগত অস্পষ্টতার বাস্তব উদাহরণ।

জয়শঙ্করের সফর কেন ম্লান হলো?

জয়শঙ্করের সফর মূলত রাষ্ট্রীয় বার্তা ও সম্পর্কের পুনরুদ্ধার কেন্দ্রিক ছিল। শোক জানানো, উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ, দ্বিপাক্ষিক টোন তৈরি করা। কিন্তু জামায়াতের গোপন বৈঠক নিয়ে তথ্য বেরিয়ে আসার পর মিডিয়া প্রচারের ধরণ এমনভাবে দাঁড়ায় যে, “ভারতীয় কূটনীতিকের গোপন বৈঠক”-এর ব্যাখ্যা ভুলভাবে ফুটে ওঠে। জামায়াতকে ভারত-নির্ভর বা নির্দেশিত সংস্থার মতো দেখানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে জয়শঙ্করের সফরের মেসেজে বিভক্ততা তৈরি হয়।

ফলে যেখানে একটি রাষ্ট্রীয় সফরের লক্ষ্য ছিল সম্পর্কের সমন্বয় ও তাদের স্বার্থে কোন বিশেষ দলের সাথে ইতিবাচক টোন সেট করা। যেটা সাধারনত ভারত করে থাকে। সেখানে এমন একটি বিষয় সামনে আসে যা নিউজ সাইকেলকে বিতর্কিত করে তুলেছে। অনেক পাঠক বা দর্শক এটিকে “ভারতীয় কূটনীতির প্রভাব” বা “জামায়াতের অনির্দিষ্ট কৌশল” হিসাবে বুঝেছে। যা জয়শঙ্করের উদ্দেশ্যের ধারকে ম্লান করে দিয়েছে।

জামায়াতের লাভ কী?

এখানে উল্টো ফল হলো যদিও কিছু সংবাদ শিরোনামে দেখে মনে হতে পারে জামায়াত “ভারতের কথা মতো” কাজ করেছে। বাস্তবে জামায়াত নিজের অবস্থান তুলে ধরেছে যে, তারা সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায় এবং কখনো একপক্ষের প্রতি পক্ষপাতী নয়। জামায়াতের বক্তব্য ছিলো অন্যান্য রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সঙ্গে তাদের প্রকাশ্য যোগাযোগ রয়েছে এবং ভারত সহ তাদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চায়। এই বার্তাটাই পরিপূর্ণ প্রেক্ষাপটে তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে একটু বেশি শক্ত করেছে। কিন্তু সংবাদ পরিবেশনের ভুল উপস্থাপনা প্রথম দিকে এটি অনেকের কাছে অন্যরূপে ফুটেছে।

কূটনীতির চোখে এই ঘটনা  “Narrative Control” এবং Strategic Ambiguity–র একটি নমুনা। রাষ্ট্রীয় বয়ান ও রাজনৈতিক দলের বয়ান যখন সমান্তরালভাবে চলে এবং মিডিয়া তা খন্ডিতভাবে তুলে ধরে। তখন বিভিন্ন ফ্রেম তৈরির সুযোগ তৈরি হয়। কোনো একটি বক্তব্য যদি সময় এবং প্রেক্ষাপটে ঠিকভাবে ব্যাখ্যা না করা হয়, তখন তা বিপক্ষের বার্তা বা উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে স্থান দিতে পারে। এটাই এখানে ঘটেছে।

সফরের উদ্দেশ্য বনাম বাস্তব প্রতিক্রিয়া

জয়শঙ্করের সফরের মধ্য দিয়ে ভারত মূলত তিনটি সংকেত দিতে চেয়েছিল:

১. বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হলেও ভারত বিচ্ছিন্ন নয় বরং এখনো পূর্ণমাত্রায় প্রাসঙ্গিক।

২. দিল্লি সব প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সক্ষম। আগের মতই বাংলদেশে নির্বাচন পূর্ব কোন হাই অফিসিয়ালের ঢাকা সফরের সিলসিলা অব্যাহত আছে।

৩. ভারত এখনো এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী কূটনৈতিক খেলোয়াড়।

কিন্তু জামায়াত নেতার বক্তব্য সেই সংকেতের ওপর একটি counter-narrative চাপিয়ে দেয়। জনাব শফিক বলেন, ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে তার বৈঠক নতুন কিছু নয়, কিন্তু সেগুলো গোপন রাখতে বলা হয়েছিল। এই একটি বাক্যই কূটনৈতিকভাবে বহুস্তরের অর্থ বহন করে।

একদিকে এটি দেখায় ভারত কেবল ক্ষমতাসীন বা ‘পছন্দের’ শক্তির সঙ্গেই নয়, বরং বিতর্কিত ও দীর্ঘদিন কোণঠাসা রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছে। অন্যদিকে এটি ভারতের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর, কারণ এতে তাদের কূটনীতির দ্বৈততা ও পর্দার আড়ালের বাস্তবতা প্রকাশ পায়।

দেশি গণমাধ্যমের খণ্ডিত উপস্থাপনা: কার লাভ?

দেশীয় অনেক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল বিষয়টি তুলে ধরেছে খণ্ডিতভাবে। “ভারতের অনুরোধে গোপন বৈঠক”, “জামায়াত–ভারত গোপন যোগাযোগ” ইত্যাদি শিরোনামে।

এই খণ্ডিত উপস্থাপনা দুইটি কাজ করেছে।

১. ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

২. অজান্তেই জামায়াতকে একটি বড় রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে।

কারণ, সম্পূর্ণ বক্তব্য পড়লে বোঝা যায়- জামায়াত আসলে নিজেকে স্বচ্ছ, ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী কূটনীতিতে বিশ্বাসী শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। তারা বলেনি যে তারা ভারতের নির্দেশ মানে; বরং বলেছে, তারা সবার সঙ্গে কথা বলে এবং প্রকাশ্যেই বলে।

গণমাধ্যম যখন কেবল “গোপন রাখতে বলা হয়েছিল” অংশটুকু আলাদা করে তুলে ধরে, তখন বিষয়টি সেনসেশনাল হয়। কিন্তু একই সঙ্গে জামায়াতের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বাস্তবতাও প্রকাশ্যে চলে আসে। যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পক্ষে যায়।

এখানে “ম্লান” শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। সফর ব্যর্থ হয়নি, বাতিল হয়নি, কিংবা অর্থহীন হয়ে যায়নি। কিন্তু, সফরের মূল বার্তা একচ্ছত্র থাকেনি। মিডিয়া ফোকাস বিভক্ত হয়েছে। ভারতের কূটনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একটি রাষ্ট্রীয় সফর সাধারণত নিজস্ব বয়ান তৈরি করে। কিন্তু এখানে জামায়াতের বক্তব্য সেই বয়ানের ওপর একটি ছায়া ফেলেছে। কূটনীতির ভাষায় এটিকে বলা যায়-Dilution of Diplomatic Signalling।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বদলাচ্ছে কূটনৈতিক খেলা

এই ঘটনা একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ভারত এখন আর একমাত্র বয়ান নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান সক্রিয়ভাবে উপস্থাপন করছে। মিডিয়া শুধু খবরদাতা নয়, বরং কূটনৈতিক খেলায় অনিচ্ছাকৃত অংশীদার হয়ে উঠছে। জামায়াত এখানে কোনো আক্রমণাত্মক কূটনীতি করেনি। তারা করেছে pre-emptive narrative positioning। যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দরকষাকষিতে কাজে লাগবে।

উপসংহার

জয়শঙ্করের ঢাকা সফর রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং থাকবে। কিন্তু জামায়াতের সময়োচিত বক্তব্য ও দীর্ঘদিনের কৌশলগত নীরবতা ভেঙে দেওয়া। এই সফরের রাজনৈতিক বার্তাকে কিছুটা ম্লান করেছে, বিশেষ করে বয়ান ও প্রতীকি দিক থেকে। এটি প্রমাণ করে, বর্তমান রাজনীতিতে ক্ষমতা শুধু রাষ্ট্রের হাতে নয়; বয়ান যার দখলে, প্রভাবও তার কাছেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সেই বয়ানের লড়াইই শুরু হয়েছে। যেখানে জামায়াত কৌশলগতভাবে এখন যথেষ্ট এগিয়ে। 

লেখক - ইতিহাস, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক।
img

সিলেটের রেলপথে আটকে থাকা প্রতিশ্রুতি: ৩ সেপ্টেম্বরও পেরোল, টাঙ্গুয়া এক্সপ্রেস কোথায়?

প্রকাশিত :  ১৫:৫৯, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত

সিলেটবাসীর কাছে রেল এখন যেন প্রতিশ্রুতির আরেক নাম। কখনো নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর ঘোষণা, কখনো ডাবল লাইন নির্মাণের আশ্বাস, আবার কখনো সিলেট–জাফলং রেলসড়ক কিংবা ময়মনসিংহ–সিলেট সরাসরি রেল যোগাযোগের পরিকল্পনা—বছরের পর বছর ধরে এসব কথা শুনে আসছেন এই অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব যেন ক্রমেই বাড়ছে।

সর্বশেষ আলোচনায় ছিল ‘টাঙ্গুয়া এক্সপ্রেস’। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল, এই ট্রেন ঢাকার সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগকে আরও দ্রুত ও আধুনিক করবে। সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে সংসদে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট–ঢাকা রেলপথে ‘টাঙ্গুয়া’ নামে নতুন একটি ট্রেন চালু হবে।

কথা ছিল মে ও জুন মাসে। নির্ধারিত ৩ সেপ্টেম্বরও পেরিয়ে গেছে। কিন্তু ট্রেন চালুর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেও নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—সংসদে নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে যে ট্রেন চালুর কথা বলা হয়েছিল, সেই টাঙ্গুয়া এক্সপ্রেস কোথায়?
সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি আবার সংসদে তুলবেন।

সিলেটের রেল যোগাযোগের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি হলো একক রেললাইন। ২০১৯ সালে আখাউড়া–সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার প্রকল্পের ঘোষণা সিলেটবাসীর মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে রেলযাত্রা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু অর্থসংকটের কারণে প্রকল্পটি স্থগিত রয়েছে। ফলে সিলেটের সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও যোগাযোগকেন্দ্রগুলোর রেলসংযোগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও থমকে আছে।

এই রেলপথ শুধু ঢাকা–সিলেট যাতায়াতের বিষয় নয়। এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ভারতের আগরতলার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের বিষয়টিও যুক্ত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহ ও সিলেটের মানুষের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক। দুই অঞ্চলের মানুষের আত্মীয়তা যেমন গভীর, তেমনি পণ্যবাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগও রয়েছে।

তবু দুই বিভাগকে সরাসরি রেলপথে যুক্ত করা যায়নি।

২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে এক জনসভায় তৎকালীন ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান বলেছিলেন, “ময়মনসিংহ–সিলেট রেলপথে শিগগিরই আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে।”

এরপর ২০১৯ সালে সিলেট–চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ–সিলেট রুটে নতুন দুটি আন্তনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানায় রেলওয়ে। ওই সময় ইন্দোনেশিয়ার PT INKA থেকে আধুনিক কোচও আমদানি করা হয়। এসব কোচের একটি অংশ ওই রুটে ব্যবহারের কথা ছিল।

কিন্তু ঘোষণার পর বছর পেরিয়েছে। ট্রেন আর চালু হয়নি।

২০২১ সালের ৯ অক্টোবর রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমন্বয় পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছিলেন, ময়মনসিংহের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনে জরিপ চলছে।

তিনি আরও বলেছিলেন, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার উড়ালসড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। হাওরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
কিন্তু এসব ঘোষণার পরও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

বর্তমানে সিলেট থেকে ময়মনসিংহ যেতে যাত্রীদের ঘুরপথে যেতে হয়। কখনো ঢাকা, কখনো ভৈরব হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে সময় লাগে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা।
অথচ সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু করা গেলে এই যাত্রা প্রায় ৭ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব হতো।
অর্থাৎ একটি রেললাইন শুধু দুই শহরের দূরত্ব কমাত না; কমাত সময়, পরিবহন ব্যয় এবং মানুষের দুর্ভোগও। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ ও সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও সামাজিক যোগাযোগ আরও গতিশীল হতে পারত।

সিলেটের রেল যোগাযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক হতাশার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ‘টাঙ্গুয়া এক্সপ্রেস’।
২০২৩ সালে অনুমোদন পাওয়া এই ট্রেনকে ঘিরে সিলেটবাসীর প্রত্যাশা ছিল অনেক। আধুনিক, ননস্টপ ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ঢাকার সঙ্গে সিলেটের দ্রুত রেল যোগাযোগে এটি নতুন দিগন্ত খুলবে—এমন আশাই করেছিলেন যাত্রীরা।
কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা, ইঞ্জিনের স্বল্পতা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে ট্রেনটি চালু হয়নি।

এরপর মে ও জুন মাসে বিষয়টি আবার সামনে আসে। সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী সংসদে জানান, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট–ঢাকা রেলপথে ‘টাঙ্গুয়া’ নামে নতুন ট্রেন চালু হবে।
কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর পেরিয়ে গেলেও টাঙ্গুয়া এক্সপ্রেসের কোনো দেখা নেই।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টও নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। ফলে সংসদে ঘোষিত নির্দিষ্ট তারিখও যখন পার হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—ঘোষণাটি কি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

শুধু নতুন ট্রেন নয়, বিদ্যমান আন্তনগর ট্রেনের সেবাও নিয়ে সিলেটবাসীর অভিযোগের শেষ নেই।
সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেনগুলোতে পথে বিভিন্ন স্টেশনে ব্যাপক যাত্রী ওঠানামার কারণে অনেক সময় ট্রেনের ভেতরে চলাচলের জায়গা থাকে না। আশুগঞ্জ, ভৈরব বাজার, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠায় সিলেট থেকে যাত্রা করা অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে যেতে হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে সম্প্রতি সিলেটবাসী মানববন্ধনও করেছেন। তাঁদের দাবি, ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাওয়ার পথে আন্তনগর ট্রেনের স্টপেজ কমানো হোক, যাতে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

সিলেটবাসীর বক্তব্য, আন্তনগর ট্রেনের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো দ্রুত ও তুলনামূলক আরামদায়ক যাত্রা। কিন্তু পথে অতিরিক্ত স্টপেজ ও যাত্রী ওঠানামার কারণে সেই সুবিধা অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে।

সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শ্রীমঙ্গল। চা-বাগান, পাহাড়, বনাঞ্চল, হাওর ও বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে শ্রীমঙ্গল দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য।

প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা রয়েছে এখানে। রাধানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্র। পাশাপাশি লেবু, আনারস, কাঁঠাল ও চা-বাগানের বিস্তৃত চাষাবাদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। এসব খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।
ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাধানগরের নামও। ১৭৮ বিঘা জমির ডলুছড়া পাহাড় ব্রিটিশ শাসনামলে শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দানবীর রাধা নাথ দেব চৌধুরী কিনেছিলেন। পরে তিনি জমিটি তাঁর চার সন্তানের মধ্যে বণ্টন করেন। তাঁদের কেউ কেউ জমি বিক্রি করেন, আর অবশিষ্ট জমির একটি অংশ সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন কারণে হাতছাড়া হয়ে যায়। তাঁর নাম থেকেই গড়ে ওঠে ‘রাধানগর’, যা বর্তমানে সিলেট বিভাগের অন্যতম উন্নত ও সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এত সম্ভাবনার পরও শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট বিভাগের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে ঘিরে আধুনিক রেলসেবা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। বিপুল প্রবাসী আয়, চা শিল্প, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পর্যটন—সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে এ অঞ্চলের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য।
জাফলং, রাতারগুল, বিছানাকান্দি, লালাখান কিংবা শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান—প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রই দেশের পর্যটন খাতকে আরও বড় করার সম্ভাবনা রাখে। কিন্তু আধুনিক ও দ্রুত রেল যোগাযোগের অভাব সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর পথে একটি বড় সীমাবদ্ধতা।
ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনগুলোর অনেকগুলো এখনো পুরোনো ইঞ্জিননির্ভর। কোথাও কোথাও রেলের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের নিচে নেমে আসে। ফলে সড়কপথের যানজট ও দীর্ঘ যাত্রার বিকল্প হিসেবে যে রেলকে আরও কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, সেটিও অনেক ক্ষেত্রে সময়সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি।

২০১৭ থেকে শুরু করে পরবর্তী বছরগুলোতে সিলেটের রেল যোগাযোগ নিয়ে একের পর এক ঘোষণা এসেছে। নতুন ট্রেন, ডাবল লাইন, সরাসরি ময়মনসিংহ–সিলেট রেল যোগাযোগ, সিলেট–জাফলং রেলসড়ক—প্রতিটি উদ্যোগই মানুষের মনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
কিন্তু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবায়নের দূরত্ব দিন দিন স্পষ্ট হয়েছে।

সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ মানববন্ধন, মিছিল, সভা ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য এখন অনেকটা অভিন্ন—আর ঘোষণা নয়, এবার তাঁরা বাস্তব কাজ দেখতে চান।
কারণ একটি ট্রেন শুধু কয়েকশ যাত্রীকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় না। একটি কার্যকর রেলপথের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের সময়, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতি।

৩ সেপ্টেম্বর পেরিয়ে গেছে। সংসদে ঘোষিত তারিখও এখন অতীত। অথচ সিলেটবাসীর অপেক্ষা শেষ হয়নি।
তাঁরা আর নতুন কোনো তারিখ শুনতে চান না। তাঁরা দেখতে চান ট্রেন। দেখতে চান আধুনিক রেললাইন। চান দ্রুতগামী ও নির্ভরযোগ্য রেলসেবা।
সিলেটের রেলপথ যেন আর প্রতিশ্রুতির স্টেশনে দাঁড়িয়ে না থাকে—এটাই এখন এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা।