img

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু: আমার কিছু অনুভূতির প্রকাশ

প্রকাশিত :  ০৬:১৪, ০৩ জুন ২০২৬

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু: আমার কিছু অনুভূতির প্রকাশ

আবদুল হামিদ মাহবুব

মৃত্যু মানুষের জীবনের শেষ অধ্যায়। কিন্তু অনেক সময় মৃত্যুর পরই একজন মানুষকে নিয়ে নতুন বিতর্কের শুরু হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন ঘটনা নতুন নয়। বরং দিন দিন এটি যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। সম্প্রতি তোফায়েল আহমদের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেল, সেটিও সেই পুরোনো বাস্তবতারই নতুন সংস্করণ।

কেউ শোক প্রকাশ করেছেন। কেউ তার রাজনৈতিক জীবনের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ এমন ভাষায় সমালোচনা করেছেন, যা একজন মৃত মানুষকে নিয়ে সভ্য সমাজে প্রত্যাশিত নয়।

একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর আমরা আসলে কী বিচার করি? তার পুরো জীবনকে, নাকি জীবনের শেষ কয়েকটি অধ্যায়কে? এইসব প্রশ্ন আমি কাকে করছি? করছি নিজেকে। নিজের বিবেককে। উত্তরটা আমাকেই দিতে হবে। আমার কাছে উত্তরগুলো এমন; মানুষ ভুল করে। ভুল-শুদ্ধ নিয়েই মানুষের জীবন। পৃথিবীর কোনো রাজনীতিবিদের জীবনই সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়। বিশেষ করে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে রাজনীতি অনেক বেশি সংঘাতপূর্ণ। এখানে সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ক্ষমতা, আন্দোলন, দলীয় বাস্তবতা, রাষ্ট্রের চাপ এবং সময়ের দাবি। ফলে রাজনৈতিক জীবনে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

তবে একটি বিষয়ও সত্য। একজন মানুষের জীবনের মূল্যায়ন করতে হলে তার অবদান, প্রেক্ষাপট এবং সময়কে একসঙ্গে দেখতে হয়। শুধু পছন্দ বা অপছন্দের ভিত্তিতে ইতিহাস লেখা যায় না। আমি এখানে ইতিহাসও লিখছি না। আমি কেবল তোফায়েল আহমদকে নিয়ে কিছু মনের কথা তুলে ধরছি।

তোফায়েল আহমদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি শুধু একজন মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য ছিলেন না। তিনি ছিলেন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ। সেই সময়ের ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে তার নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়। ওই সময়ের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ছিলেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি বড় বাঁক। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, সেই আন্দোলনই পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করেছিল। পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে ছাত্রসমাজের যে ভূমিকা ছিল, সেখানে তোফায়েল আহমদ ছিলেন সামনের সারির একজন সংগঠক।

স্বাধীনতার আগে তার ভূমিকা নিয়ে খুব বেশি বিতর্ক নেই। বিতর্ক আছে স্বাধীনতার পরের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে। কিন্তু এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমরা প্রায়ই একজন মানুষের পুরো জীবনকে একটি মাত্র ঘটনার মধ্যে আটকে ফেলি। আবার কখনো একটি ভুল দিয়ে সব অর্জন মুছে ফেলতে চাই। অন্যদিকে একটি ভালো কাজ দিয়ে সব ভুলও ক্ষমা করে দিতে চাই। দুটিই চরমপন্থা।

একজন মানুষ একই সঙ্গে অবদানও রাখতে পারেন, আবার ভুলও করতে পারেন। ইতিহাসের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মানুষই এমন। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আরেকটি বড় সংকট হলো প্রতিপক্ষকে অস্বীকার করার প্রবণতা। এখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক সময় ব্যক্তিগত শত্রুতায় রূপ নেয়। ফলে মৃত্যুর পরও বিরোধ শেষ হয় না।

বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকে। তীব্র মতভেদও থাকে। কিন্তু একজন মানুষ মারা গেলে তার অবদানকে সম্মান করার একটি সংস্কৃতি রয়েছে। সমালোচনা তখনও হয়, কিন্তু তা হয় তথ্যের ভিত্তিতে, শালীন ভাষায়। বাংলাদেশে আমরা এখনো সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি।

এর একটি কারণ গণতান্ত্রিক চর্চার দুর্বলতা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেরও বেশি সময় পরও আমরা গণতন্ত্রকে পুরোপুরি একটি সংস্কৃতিতে রূপ দিতে পারিনি। নির্বাচন হয়েছে। সরকার বদল হয়েছে। আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু সহনশীলতা খুব বেশি গড়ে ওঠেনি। ফলে রাজনৈতিক মতভেদকে আমরা প্রায়ই ব্যক্তিগত বিদ্বেষে পরিণত করি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই প্রবণতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে। আগে কোনো মন্তব্য একটি নির্দিষ্ট আড্ডা বা পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। এখন একটি পোস্ট কয়েক মিনিটেই হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তথ্যের সঙ্গে গুজবও ছড়ায়। সত্যের সঙ্গে মিথ্যাও হাঁটে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় যাচাই করার প্রয়োজনও অনুভব করি না। একটি পোস্ট দেখলাম। সেটি আমাদের পছন্দ হলো। সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার করে দিলাম। যেন তথ্য নয়, অনুভূতিই সত্যের একমাত্র মানদণ্ড। ফলে একজন মৃত মানুষকে নিয়েও অসংখ্য অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে।

তোফায়েল আহমদের মৃত্যুর ঘটনাটি আবারও আমাদের সামনে সেই প্রশ্ন তুলেছে; আমরা কি ইতিহাসকে পড়ছি, নাকি শুধু প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি?

একজন রাজনৈতিক নেতার সমালোচনা অবশ্যই করা যাবে। গণতন্ত্রে সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু সমালোচনা আর কুৎসা এক জিনিস নয়। মতভেদ আর বিদ্বেষও এক নয়। একজন মানুষকে মূল্যায়ন করতে হলে তার জীবনকে সম্পূর্ণ দেখতে হবে। কোথায় তিনি সফল ছিলেন, কোথায় ব্যর্থ ছিলেন, কী অবদান রেখেছেন, কী ভুল করেছেন—সবকিছুই আলোচনায় আসতে পারে। কিন্তু সেটি হতে হবে তথ্যের ভিত্তিতে।

কারণ ইতিহাস প্রতিশোধের জায়গা নয়। ইতিহাস বিচার করে সময়, প্রেক্ষাপট এবং কাজকে। আজ তোফায়েল আহমদ নেই। তার রাজনৈতিক জীবনের বিতর্কও থাকবে। সমর্থকরা তার অর্জনের কথা বলবেন। সমালোচকরা তার সীমাবদ্ধতার কথা তুলবেন। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাসে তার একটি অধ্যায় রয়েছে। সেই অধ্যায় মুছে ফেলা যাবে না। যেমন তার রাজনৈতিক জীবনের বিতর্কও মুছে ফেলা যাবে না।

সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা মানুষকে সাদা বা কালো রঙে দেখে না। তারা দেখে পূর্ণ মানুষ হিসেবে। গুণ ও সীমাবদ্ধতার সমন্বয়ে। আমাদেরও সেই শিক্ষা দরকার। কারণ আজ আমরা তোফায়েল আহমদকে নিয়ে কথা বলছি। কাল অন্য কাউকে নিয়ে বলব। একদিন আমাদের নিজেদের জীবনও অন্যরা মূল্যায়ন করবে।

সেদিন আমরা কী চাইব? আমাদের ভুলগুলোই শুধু মনে রাখা হোক, নাকি আমাদের ভালো কাজগুলোকেও স্মরণ করা হোক? এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো বলে দেবে আমরা কতটা সভ্য হয়েছি।

তোফায়েল আহমদের মৃত্যু তাই শুধু একজন রাজনীতিকের বিদায় নয়। এটি আমাদের সমাজের সামনে ধরা একটি আয়না। সেই আয়নায় আমরা একজন মানুষকে যতটা দেখি, তার চেয়েও বেশি দেখি নিজেদের। প্রশ্ন এখন একটাই; আমরা কি সেই আয়নায় তাকানোর সাহস রাখি?


লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক। সাবেক সভাপতি: মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব।
মোবাইল: ০১৭১১১৭৮৭৮৪
ই-মেইল:  [email protected]
img

আবদুল হাই শিকদারের বই ও আমার বই

প্রকাশিত :  ১০:২৫, ১৮ জুলাই ২০২৬

আবদুল হামিদ মাহবুব

আমরা যারা লেখক, গবেষক কিংবা বইসংগ্রাহক, তাদের কাছে বই শুধু কাগজের মলাট নয়। বই আমাদের জীবনের অংশ। অনেক সময় মনে হয়, বই নাড়াচাড়া না করলে যেন বেঁচে থাকাই অসম্পূর্ণ। জানি, কেনা সব বই পড়া হবে না। তবু বই কিনি। প্রয়োজন নেই, তবু কিনি। গাঁটের টাকা খরচ করেও কিনি। বইয়ের দোকানে ঢুকলেই হাত বাড়িয়ে দিই। এ এক অদ্ভুত নেশা। একসময় সংগ্রহ শত ছাড়ায়। কারও হাজার। কারও হাজার হাজার।

তেমনই একজন কবি আবদুল হাই শিকদার। তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার বই। আনন্দের খবর, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তাঁর এই সংগ্রহ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে একটি বিশেষ কর্নার হবে। বইগুলো তালিকাভুক্ত হবে। ধীরে ধীরে ডিজিটাল আর্কাইভও তৈরি হবে। এই উদ্যোগ সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এমন দৃষ্টান্ত আরও তৈরি হোক। আবদুল হাই শিকদার স্বনামধন্য মানুষ। রাজধানীতে থাকেন। তাই তাঁর সংগ্রহের একটি সুন্দর গন্তব্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মতো মফস্বলের মানুষদের কথা কে ভাববে?

আমার নিজের কথাই বলি। বাসা বদল করেছি কয়েকবার। কয়েক দফা বন্যায় ঘরে পানি উঠেছে। সেই পানিতে কয়েক হাজার বই নষ্ট হয়েছে। তবুও এখনো আমার সংগ্রহে তিন থেকে চার হাজার বই আছে। কিছু বই রিডিং রুমে যত্ন করে সাজানো। অনেকগুলো আবার গাড়ির গ্যারেজে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। জায়গার অভাব। সময়ের অভাব। তবু বইগুলো ছেড়ে দিতে মন চায় না। আমি জানি, আমার মৃত্যুর পর এই বইগুলোর খবর কেউ নাও নিতে পারে।

আমার স্ত্রী লেখালেখি করেন। তাঁরও কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সংসারের বাস্তবতায় মাঝে মাঝে তাকেও দেখি আমার এলোমেলো বইয়ের স্তূপে বিরক্ত হতে। তখন মনে হয়, আমার কাছে যে সম্পদ, অন্যের কাছে তা হয়তো শুধু জায়গা দখল করে থাকা কাগজ। আমার একমাত্র ছেলে বই ভালোবাসে। কিন্তু তার আগ্রহ পদার্থবিজ্ঞানে। এখন সে বিদেশে। ভবিষ্যতে সেখানেই হয়তো স্থায়ী হবে। আমার পুত্রবধূও পদার্থবিজ্ঞানের মানুষ। তবে শেষবার বাসা বদলের সময় সে যে আন্তরিকতার সঙ্গে বইগুলো গুছিয়ে দিয়েছিল, তা আজও মনে আছে। শ্বশুরের বইয়ের প্রতি তার সেই মমতা আমাকে স্পর্শ করেছিল। তবু বাস্তবতা তো বাস্তবতাই। তারা হয়তো আর দেশে ফিরবে না। তখন এই হাজার হাজার বইয়ের কী হবে? এই প্রশ্ন আমাকে প্রায়ই তাড়া করে। ভয় হয়, একদিন হয়তো কেজি দরে বিক্রি হয়ে যাবে। যেমন হারিয়ে গেছে অনেক মূল্যবান ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ। যেমন অবহেলায় নষ্ট হয়েছে অসংখ্য দুর্লভ বই।

স্থানীয় লাইব্রেরিতে দেওয়ার কথাও ভেবেছি। কিন্তু দীর্ঘদিন সেই লাইব্রেরির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে জানি, সেখানে বই সংরক্ষণের পরিবেশ খুব ভালো নয়। যে বইগুলো আছে, সেগুলোরও যথাযথ যত্ন হয় না। পাঠকও খুব কম। একসময় লাইব্রেরিটি প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। আমরা কয়েকজন উদ্যোগ নিয়ে আবার চালু করেছি। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো সংশয় কাটে না। তাই চাই, আমার বইগুলো এমন কোথাও যাক, যেখানে পাঠক আছে। গবেষণা হয়। বইয়ের মূল্য বোঝে এমন মানুষ আছে। যেখানে আগামী প্রজন্ম বইগুলো হাতে তুলে নেবে।

আমার নিজের লেখা প্রায় চল্লিশটি বইও রয়েছে। সব কপিই আমার কাছে নেই। যেগুলো আছে, দেশের বিভিন্ন লাইব্রেরি নিতে চাইলে আমি নিজের খরচে পৌঁছে দিতে প্রস্তুত। অন্তত কিছু পাঠক বইগুলো হাতে নেবে। পড়ুক বা না পড়ুক, বইগুলো বেঁচে থাকুক। লেখালেখি করে কী অর্জন করেছি, জানি না। তবে এটুকু জানি, লেখালেখির বাইরে আর কিছু শিখিনি। বই আর লেখাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

তাই আবদুল হাই শিকদারের বই সংরক্ষণের উদ্যোগের খবর পড়ে নিজের কথাগুলো লিখতে ইচ্ছে হলো। যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কোনো দায়িত্বশীল গ্রন্থাগার কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়, তবে আমাদের মতো আরও অনেকের আজীবনের সাধনার সম্পদও বেঁচে থাকবে।

ইউজিসি বলেছে, ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ শুধু সংরক্ষণ নয়, ডিজিটাল আর্কাইভও তৈরি করা হবে। এই চিন্তাকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আশা করি, এই উদ্যোগ শুধু একজনকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত গ্রন্থভাণ্ডারও একদিন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণের সুযোগ পাবে।

শেষে আরেকটি কথা। কিছুদিন আগে জানলাম, শাহবাগের জাতীয় গ্রন্থাগারের বই সংরক্ষণের জন্য ভবন ভাড়া বাবদ কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। নিশ্চয়ই এর বাস্তব কারণ রয়েছে। হয়তো নতুন ভবনের কাজ চলছে বলেই এমন ব্যবস্থা করতে হয়েছে। তবে সাধারণ একজন বইপ্রেমী হিসেবে মনে প্রশ্ন জাগে; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যদি স্থায়ী অবকাঠামো আরও আগে গড়ে তোলা যেত, তাহলে হয়তো এই বিপুল অর্থ অন্যভাবেও দেশের গ্রন্থাগার ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা সম্ভব হতো।

বই কেবল ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। বই একটি জাতির স্মৃতি। একটি সভ্যতার উত্তরাধিকার। তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাড়ুক। যাতে কোনো লেখকের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আজীবনের সাধনাও কেজি দরে বিক্রি না হয়ে যায়। আবদুল হাই শিকদারের জন্য আন্তরিক শুভকামনা। তাঁর উদ্যোগ সফল হোক। আর সেই সঙ্গে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ব্যক্তিগত গ্রন্থভাণ্ডারও যেন একদিন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায়।


লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশুসাহিত্যিক। সাবেক সভাপতি মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব  ও  যুগ্ম সাধারণ  সম্পাদক, মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। মোবাইল: ০১৭১১১৭৮৭৮৪, ই-মেইল:  [email protected]