img

কমলগঞ্জে ৯ আকাশমনি গাছ নিধন

প্রকাশিত :  ১১:৩১, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কমলগঞ্জে ৯ আকাশমনি গাছ নিধন
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের রেলক্রসিং সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে সৌন্দর্যবর্ধনকারী ৯টি আকাশমনি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাছের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন সড়কের পাশের গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায়, কেটে নেওয়া গাছের অংশ কমলগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকাপন গ্রামের নজব আলীর ছেলে মহসিন মিয়ার বাড়িতে রাখা হয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মহসিন মিয়া ও মহিউদ্দিনের বাড়ি থেকে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০ টুকরো গাছ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো বন বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রায়ই বনাঞ্চলের গাছ চুরি হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। এখন রাস্তার পাশের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুমন আলী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে গাছগুলো কেটে নেওয়া হয় এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় বন বিভাগের উদ্ধার অভিযানে তিনি সহযোগিতা করেন। উদ্ধার হওয়া গাছের খণ্ডাংশের সংখ্যা প্রায় ২০টি।
স্থানীয় পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আহাদুর রহমান বুলু বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার রাস্তার পাশের ৯টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ গাছ উদ্ধার করলেও দ্রুত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
কমলগঞ্জ রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাছগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর