img

কোয়াড সিক্যুরিটি ডায়লগঃ বাংলাদেশকে নিয়ে চীনের মাথাব্যাথা? - ইমরান চৌধুরী

প্রকাশিত :  ২০:১৭, ২৯ মে ২০২১

কোয়াড সিক্যুরিটি ডায়লগঃ বাংলাদেশকে নিয়ে চীনের মাথাব্যাথা? - ইমরান চৌধুরী
কোয়াডল্যাট্যারাল (চতুর্ভুজাকার) নিরাপত্তা সংলাপ একটা  নতুন অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইন্ডিয়া, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে - এই চারটি দেশের কারণে এই সংলাপটির নামের আবির্ভাব। ২০০৭ সালে জাপানের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী সেঞ্জে আবে’ প্রথমে এই নতুন উদ্যোগটি নিয়ে অগ্রসর হয় তখনকার আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড এবং ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রমুখদের সহায়তায়। সংলাপটির সাথে সাথে তাঁরা সমান্তরালভাবে শুরু করেন একটি যৌথ সামরিক মহড়া - ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব মহড়া - ‘\'মালাবার মহড়া।‘\'
সামরিক মহড়া এবং কূটনৈতিক সংস্থিতির ব্যাপকতা এবং আয়োজনের পরিসর দেখেই বিশেষজ্ঞরা অনুধাবন করেন  যে, এই সকল সংলাপ এবং মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হল চায়নার সামরিক এবং অর্থনৈতিক পেশী সঞ্চালন রোধ করা। চায়না সরকার  সঙ্গে সঙ্গে তড়িঘড়ি করে সকল সদস্যদেরকে  আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ প্রেরণ করে।
অস্ট্রেলিয়ার জন হাওয়ার্ড এর নেতৃত্ব চলে গেল নতুন সরকার প্রধান কেভিন রুড এই ডায়লগ থেকে দূরে সরে যায় বিভিন্ন কারণে - তারপরেও বাকি তিন দেশ তাদের ডায়লগ চালিয়ে যেতে থাকে এবং ২০১০ সালে রুড সরকার এর পর যখন জুলিয়া গিলার্ড প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পুনরায় পুনরুজ্জীবিত হয় কোয়াড এবং এর ফলশ্রুতিতে ইউ, এস মেরিনরা অস্ট্রেলিয়ার নিকট ডারউইন দ্বীপে অবস্থান গ্রহণ করে যাতে করে মেরিনরা তিমুর সাগর এবং ল্যাম্বক প্রণালিতে নজর রাখতে পারে এবং একই সাথে পুনরায় সেই পুরানো চার দেশে মিলে মালাবার এ নৌ বাহিনীর মহড়া করতে থাকে। 
২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও চায়নার হটাৎ বৃদ্ধি প্রাপ্ত সামরিক এবং ব্যাবসায়িক প্রতিপত্তি খর্ব না করলে সামনের দিনগুলোতে অত্র অঞ্চলের সকল ক্ষমতা দখল হয়ে যেতে পারে ভেবে পুনরায় এই সংলাপ আশিয়ান ট্রিটি ভুক্ত দেশ গুলোর সম্মেলনে উৎথাপন করে এবং সংলাপ চালাতে থাকে - যা কিনা চীনকে বেশ ভাবান্বিত করে তুলে - চায়না এই নব্য উদ্যোগ কে ‘\'নতুন কোল্ড ওয়ার‘\' হিসেবে আখ্যায়িত করে। 
চায়না কোন অংশে  কম না সেও সাউথ চায়না সমুদ্র এবং পূর্ব চায়না সমুদ্রে তার পেশি প্রসার করতে থাকে - আশেপাশের দেশগুলোকে সস্তা কিস্তিতে ঋণ দিয়ে ক্রমান্বয়ে ঐ দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলতে থাকে। আর ঐ ফাঁদের বেড়াজালে আস্তে আস্তে সমুদ্র - ব্যবসা - উন্নয়নের নামে চায়না তার প্রভাব বিস্তার করতে থাকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে। এখন সে সম্পূর্ণ ইন্ডিয়ান মহাসাগর - থেকে শুরু করে বে অফ বেঙ্গল রিজিওন কন্ট্রোল নেবার পায়তারা করছে। 
চায়নার এই নব্য সাম্রাজ্যবাদী প্রভাবের ভয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতনাম ও কোয়াড প্লাস প্লান এ সংযোজিত হতে থাকে, ক্রমে ক্রমে কোয়াড সংলাপ এর ছত্রতলে আরও অনেক গুলো হুমকি প্রাপ্ত দেশ আশ্রয় নিতে থাকে চায়নার এই  নতুন আগ্রাসী বৈদেশিক নীতির ভয়ে। ইন্ডিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাজ্য সেই ১৯৯১ সালে ইন্ডিয়ার ওপেন হবার সময় থেকেই একে ওপরের সম্পূরক এক বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে থাকে এবং কোয়াড সংলাপকে আজ অনেক ভূ রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা এশিয়ান ন্যাটো হিসেবে দেখতে থাকে। 

অত্র এলাকার নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে চায়নার এই মোড়ল এর পোশাকে আবির্ভূত হওয়া কোন দেশই সহজ ভাবে মেনে নিতে পারছে না। মার্কিন নব্য প্রেশিডেন্ট এই বার কোভিড ১৯ এর দুর্দশা কে ব্যবহার করতঃ অত্র এলাকার দেশ গুলোর সাথে এক সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলছে যা কিনা আগামীতে এই নতুন সংলাপকে এক নতুন সামরিক - ভূ রাজনৈতিক অ্যালায়েন্সে পর্যবসিত করতে পারে এবং তার জন্য চায়নার সরকার চায়নার আশেপাশের সকল দেশ উপর এক ধরনের স্নায়ু চাপ বৃদ্ধি করতে থাকে বিভিন্ন পন্থার মাধ্যমে। বাংলাদেশের সাথে ইন্ডিয়ার ঐতিহাসিক, সংস্কৃতি, অংশীদারি সামাজিক নীতি রীতি দ্বারা সমৃক্ত সেই ৫০০০ বছর যাবত; বাংলাদেশের সবচে’ নিকটতম প্রতিবেশী- যার দ্বারা বাংলাদেশ তিন দিক থেকে ঘেরা - এবং একই জলরাশি বে অফ বেঙ্গল - এরাবিয়ান সমুদ্র এবং ইন্ডিয়ান ওশান দিয়ে পরিমন্ডলে। স্বভাবত কারণেই বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার সাথে এই নতুন স্নায়ুযুদ্ধের অংশীদার হওয়াটাই স্বাভাবিক । বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিকটতম দেশের নিকটই সংরক্ষিত দুরের এই নব্য  পেশীশক্তির পেশীর নিষ্পেষণে না যাওয়াটাই শ্রেয়। সেই কারণেই হয়ত বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার স্বার্থ এবং বাংলাদেশের ভূমি, সৈকত, জনবলকে নিরাপদ রাখার জন্য এই সংলাপে থাকাটাই সবচে’ বুদ্ধিমান বিবেচনা। 
যদিও এখনও এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি - কিন্তু অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে চায়না খুবি উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে - গত কয়েক মাস যাবত যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের সামরিক নেতাদের আগমন এবং বাংলাদেশের সামরিক ব্যক্তিবর্গদের বিদেশ ভ্রমন দেখে চায়না ধরে নিয়েছে যে, বাংলাদেশ হয়ত বা এই দলে যোগ দিয়েই ফেললো বুঝি । বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ এবং ভারত বাংলাদেশের সবচে পরীক্ষিত বন্ধুর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকাটা শ্রেয় , তাহলে অন্যদের এই ব্যাপারে কোন প্রকার নাক গলানোর অবকাশ নাই। কিন্তু, আশ্চর্য হলেও সত্য যে চায়না বাংলাদেশেকে এই সংলাপে না প্রবেশ করার জন্য বেশ তৎপর হয়ে পরেছে। কয়েকটি অতি উচ্চ শ্রেণীর হর্তা কর্তা ব্যক্তিরা অহরহ বাংলাদেশে কূটনৈতিক ভ্রমণ করছে - যাতে করে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার হাত ধরে - এই উদ্যোগ  এর দিকে পা’  না বাড়ায় । কিন্তু কেন ? কেন এত মাথাব্যথা এবং কেনই বা তাদের এত কুম্ভীরাশ্রু নির্গমন করার দরকার ? যে দেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের সকল ধরনের সাহায্য করেছিল - এই সেই বাংলা যেই বাংলার মানুষদের নির্মম ভাবে হত্যা করার জন্য চায়নিজ রাইফেল এর গুলি বানানোর ফ্যাক্টরি ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে তড়িঘড়ি করে চালু করেছে - যাহার  পর্দা উন্মোচন করতে তদানীন্তন চায়নিজ ডিফেন্স মিনিস্টার এসেছিল , আজ সেই দেশের জন্য এত ভালবাসা কেন? 
ব্যাবসায়িক সম্পর্ক, অস্ত্র বিক্রি, অর্থ লগ্নি, তাদের বানানো কাঁচামাল ব্যবহার করে আমাদের রফতানি বাণিজ্যে প্রসার এবং আমাদের অবকাঠামো প্রোজেক্টে সফট হারে সুদ দিয়ে সাহায্য করা -এই সব গুলোই ওরা করেছে ওদের স্বার্থে - যার জন্য বাংলাদেশ হয়তো কৃতজ্ঞ এবং সফলতার অংশীদার মনে করে; তার মানে এই নয় যে, বাংলাদেশ তাদের একটি ভ্যাসাল স্টেট বা তাবেদার রাষ্ট্র। বর্তমান পৃথিবীতে বাংলাদেশ একটি উদাহারন - বাংলাদেশ একটি রোল মডেল - বাংলাদেশকে অনুকরণ করতে সেই ১৯৭১ বর্বররাও উৎসাহী। বাংলাদেশ আজ সারা পৃথিবীতে সমাদরে সম্ভাষিত তাঁর ফেলা আসা অতীত দারিদ্রতাকে উন্নয়নের সোপানে পরিবর্তনের এবং রূপান্তরের জন্য। 
সম্প্রতি চায়নিজ  পদাতিক সামরিক এবং নৌ সেনাদের পায়তারা - হিমালয়ের চূড়ায় সৈন্য সমাবেশ, মায়ানমার এর সাথে সখ্যতা, বে অফ বেঙ্গল এ নৌসেনা জনিত পেশী সঞ্চালন, ঋণ ফাঁদ পেতে পার্শ্ববর্তী দেশের সমুদ্র বন্দর দখলে নিয়ে নেওয়া, ইন্ডিয়ান ওসোন রিজিওন এবং থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া সহ আশেপাশের সকল দেশের দিকে চাতক পাখির মত তাকানোর কারণে বাংলাদেশের ও শঙ্কা হওয়াটা স্বাভাবিক - এবং এই চাইনিজ সামরিক অক্ষের থেকে তাদের চির পরীক্ষিত বন্ধু জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত এর সাথে হাত  মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আনিত এই সংলাপ থেকে জোট যোগদান করাটা এক ধরনের নিরাপত্তা বীমা। 
আর এতে চাইনিজ অস্ত্র ও ঋণ কূটনীতি দিয়ে ভয় দেখানো বা অহেতুক বাংলাদেশকে নিয়ে মাথাব্যাথা  একান্তই অহেতুক এবং অনভিপ্রেত। 
একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তাঁর সামরিক এবং ভূ রাজনৈতিক পার্টনার খোঁজার স্বাধীনতা একান্তই কাম্য। 

[লেখক একজন বিশ্লেষক এবং ভূ রাজনীতি বিশেষজ্ঞ]

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

img

ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের অতি উচ্চাশার পরিণতি যেমন হলো

প্রকাশিত :  ১৩:৩৬, ১৮ জুন ২০২৬

একটি প্রচলিত সামরিক প্রবাদে বলা হয়, ‘শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার পর কোনো যুদ্ধপরিকল্পনাই আর আগের মতো থাকে না।’ ইরানকে ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করা।

এখন যে চুক্তির (সমঝোতা স্মারক) দোহাই দিয়ে ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন, সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে লিখিত শর্ত নেই। ইরান কেবল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের চাপে চুক্তিতে লেবাননকেও যুক্ত করা হয়েছে। যেটিকে বড় জয় হিসেবে দেখছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিল হরমুজ প্রণালি। এই জলপথ পুনরায় খুলতে গিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লক্ষ্যগুলো থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি না করলে বিশ্ববাসী মন্দার পরিণতি ভোগ করতো।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবারা লিফ বলছেন, ওয়াশিংটন ইরান সম্পর্কে খুবই অবাস্তব মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধে নেমেছিল। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিতে হামলার জন্য ইরান কতটুকু প্রস্তুত তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা একেবারে ভুল ছিল।

বারবারা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতই বিষয়টি বুঝতে পারে। আমেরিকান ভোক্তাদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় এই যুদ্ধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে গেছে।

এখন ট্রাম্প একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন লিফ। তিনি বলেন, যুদ্ধ যদি প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহেই শেষ হতো, তাহলে ট্রাম্পের হাতে অনেক বেশি প্রভাব ও কূটনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ থাকতো। এখন তিনি সেগুলোর অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন।

বর্তমানে ট্রাম্পের নিজের রাজনৈতিক দলের নেতারাই এই চুক্তিকে মানতে পারছেন না। এরইমধ্যে লুইজিয়ানার বিদায়ী সিনেটর বিল ক্যাসিডি চুক্তিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বাজে কূটনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘কবরে শুয়ে রিগানও (রোনাল্ড রিগান) এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়বেন।’ রিগান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির নেতা ছিলেন।

বিল ক্যাসিডি বলছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তারা হরমুজ প্রণালির কার্যকারিতাও বুঝে গেছে। ভবিষ্যতে নিঃসন্দেহে এই কৌশল কাজে লাগাবে। পাশাপশি এই চুক্তির আওতায় ইরান নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ পাবে। উত্তর ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের কাছেও এটি ভালো চুক্তি বলে মনে হয়নি।

ট্রাম্প বহু বছর ধরে ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বা জেসিপিওএ নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন চুক্তি দেখাচ্ছে, এতে ইরানকে আরও বেশি অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

চুক্তির বিভিন্ন দফার মধ্যে আছে- আর্থিক প্রণোদনা, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সমর্থন এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনার ভবিষ্যৎ ঠিক করতে ওমান ও ইরানকে যৌথভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া।

সমঝোতা স্মারকের নথি হাতে মাসুদ পেজেশকিয়ান (বাঁয়ে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

সমঝোতা স্মারকের নথি হাতে মাসুদ পেজেশকিয়ান (বাঁয়ে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আমাদের অর্থ নয়, এটা তাদের অর্থ। আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে এটি আটকে দিয়েছিলাম। আমাদের এটি ফিরিয়ে দিতে হবে।’ পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে ইরানের কথার প্রতিধ্বনিও আছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের কাছে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে, তাহলে ইরানেরও সে দাবি করার যুক্তি আছে।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অন্যদের কাছে এটি আছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কাছেও এটি আছে। এ অবস্থায় তাদের (ইরান) বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত কাজে এটি (ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ) ব্যবহার করতে না দিলে বিষয়টা খুব কঠোর হয়ে যায়। এখানে কিছুটা কমন সেন্স ব্যবহার করতে হবে।’

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই সমঝোতা স্মারক একটি বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত। যেটির লক্ষ্য ছিল- রাজনৈতিক মূল্য দিতে হলেও সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। বারবারা লিফ বলছেন, একটি অযৌক্তিক যুদ্ধ শেষ হতে দেখাটা স্বস্তির। তবে পরে যে আবার যুদ্ধ শুরু হবে না- চুক্তিতে সে নিশ্চয়তা বেশ কম।