img

সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে ডাকাতি: সেই মাইক্রোবাস উদ্ধার, চালক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৫:২৪, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে ডাকাতি: সেই মাইক্রোবাস উদ্ধার, চালক গ্রেপ্তার

সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের লালমাটিয়ায় রয়েল সিটি আবাসিক এলাকার পাশে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত নোহা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মাইক্রোবাসের চালককে।

গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় গোলাপগঞ্জ থানাধীন পুরকায়স্থ বাজার হতে চালক কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করা হয়। চালকের স্বীকারোক্তিতে সন্ধ্যা ৬টায় গোলাপগঞ্জ থানাধীন লরিফর গ্রামের একটি গ্যারেজ হতে ডাকাতিতে ব্যবহৃত নোহা গাড়ি (ঢাকা মেট্টো চ- ১৫-২২৮৩) উদ্ধার করা হয়েছে।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার রাত ৩ টার লালমাটিয়া, রয়েল সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সিলেট–ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেড-এর একটি কাভার্ড ভ্যানকে একটি সাদা নোহা গাড়ি ব্যারিকেড দেয়। নোহা ও একটি সাদা প্রাইভেট কার হতে ৬/৭ জন সশস্ত্র ডাকাত দল স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেড-এর চালক ও হেলপারকে মারধর করে কনটেইনার খুলে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় তারা গাড়ির হেলপারদের কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

পুলিশ জানায়, ডাকাতির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ দক্ষিণ সুরমার পশ্চিমভাগ আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত সাকেল আহমদ (৩৩) কে তার শশুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাকেলের তথ্য মোতাবেক ওই রাতেই পূর্ব শ্রীরামপুর এলাকা থেকে আক্তার হোসেন (৩৪) এবং সুলতানপুর এলাকা থেকে রিহাদ আহমেদ (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনেই উপস্থিত লোকজনের সামনে ডাকাতির ঘটনাটি স্বীকার করে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার ভোরে আসামিদের দেওয়া তথ্য মতে, আটক রিহাদ আহমেদের বাড়ির বাউন্ডারি ভেতরে কচুর ঝোপের ভিতরে লুকানো ৩টি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ও ২টি কালো পলিথিনের বস্তা এবং ২টি খাকি রঙের কার্টুনে থাকা ডাকতির মালামাল উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, আসামিরা স্বীকার করেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য এবং সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিল। আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’, ফেসবুকে এমন পোস্টের পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৬:২৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায় প্লাবন সরকার (২৪) এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শাল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে প্লাবন নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’ লিখে এক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা কয়েকটি যৌথ ছবি পোস্ট করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের প্রভাত সরকারের ছেলে প্লাবন সরকার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের তোফাজ্জল হকে ছেলে হাবিবুর রহমানের (৩৫) সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে তোলা কয়েকটি যৌথ ছবি পোস্ট করেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি।’ এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের তোফাজ্জল হকে ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও হারুন মিয়ার ছেলে মঈনুল ইসলাম (৩২) নামের দুই ব্যক্তি প্লাবনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ নামিয়ে খাটের ওপর রাখেন তাঁরা। এরপর মামুদনগর বাজার থেকে পল্লিচিকিৎসক প্রদীপ সরকারকে ডেকে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক প্লাবনের রক্তচাপ পরীক্ষা করে তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানান।

পল্লিচিকিৎসক প্রদীপ সরকার বলেন, হাবিবুর রহমান, মঈনুল ইসলাম ও প্লাবন সরকার—তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল তাঁকে প্লাবনদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁরা প্লাবনের মরদেহ খাটের ওপর রেখেছেন।

প্রদীপ সরকার আরও বলেন, ‘রক্তচাপ পরীক্ষা করার পর প্লাবনের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানালে হাবিবুর ও মঈনুল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তাঁরা প্লাবনের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

তবে মঈনুলের আপন বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই মঈনুল ওদের সাথে চলাফেরা করতো। প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়ে আমার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হোক। তবে আমরা জানতাম প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। যা মুখে প্রকাশ করার মত না। কয়েকবারই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। যা বাজারের মানুষে খারাপভাবে বলাবলি করতো।

এবিষয়ে শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার পেছনে কি রহস্য রয়েছে এবং এটি আত্মহত্যা নাকি কোনো প্ররোচনা বা হত্যাকান্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর