img

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

প্রকাশিত :  ০৫:৪৭, ১২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৬, ১২ মে ২০২৬

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

গত মাসের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে হামলা চালিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত গোপনে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এর তথ্য অনুযায়ী, আমিরাতের শহরগুলো এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের প্রায় প্রতিদিনের হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছিল আবুধাবি।

চলমান এই যুদ্ধে ইসরায়েলের চেয়েও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরান বেশি সংখ্যক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ইউএই এই যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে আমিরাত এই গোপন অভিযান পরিচালনা করে। আমিরাতের এই বিশেষ অভিযানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এপ্রিলের শুরুতে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলা। 

সে সময় ইরান এই হামলার কথা স্বীকার করলেও কোন দেশ এই আক্রমণ চালিয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার আগে পর্যন্ত আমিরাতের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে ইরান প্রায় নিয়মিত বিরতিতে আক্রমণ চালিয়ে আসছিল। মূলত ইরানের প্রতিদিনের সেই আগ্রাসন মোকাবিলা করতেই আমিরাত এই গোপন সামরিক ক্যাম্পেইন শুরু করে। 

পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের এই নতুন মাত্রা বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ এর আগে আমিরাতের পক্ষ থেকে ইরানের ভেতরে সরাসরি হামলার মতো কোনো বড় পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে আসেনি।

বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরানের পক্ষ থেকে করা অসংখ্য আক্রমণের শিকার হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন তাদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টাহামলার কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এই গোপন হামলার তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

কিউবায় যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১০:১৪, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় কিউবায় হামলা চালাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্য থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছেন। আর তিনি দেশটিতে হামলার যে হুমকি দিচ্ছেন সেটি বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

১৯৬২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমান রাশিয়া কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েন করে। যা জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তারা কিউবার ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কিউবা কাছে হওয়ায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েনকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এখন ট্রাম্প যদি দেশটিতে হামলা চালান তাহলে ১৯৬২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব।

গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার ওপর নজরদারি বিমান চালানো বৃদ্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র।

এরমধ্যে গত সপ্তাহে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিনিরা। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জেরে বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্যে এটি সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিক শাস্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অবস্থা গত কয়েক মাসে অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপহরণের পর কিউবার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কারণ ভেনেজুয়েলা থেকেই নিজেদের চাহিদার বেশিরভাগ তেল পেত দেশটি।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

কিন্তু গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি রণতরীকে কিউবার কাছে মোতায়েন করা হতে পারে। ট্রাম্প তার কাছের লোকদের বলেন, রণতরী মোতায়েন এবং সেটি কিউবার কাছে নিয়ে গেলে দেশটি আত্মসমর্পণ করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে কিউবায় হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার মনোযোগ ইরানে নিয়ে গেলে তখন আর হামলা হয়নি।

সূত্র: এক্সিওস


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর