img

হোয়াটসঅ্যাপ থেকেই দেখা যাবে ফেসবুক প্রোফাইল

প্রকাশিত :  ১২:৪৭, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

হোয়াটসঅ্যাপ থেকেই দেখা যাবে ফেসবুক প্রোফাইল

হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নম্বরকে কাজে লাগিয়ে একে অপরকে বার্তা, ছবি বা ভিডিও পাঠানো যায়। এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে যেকোনো ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া যায় ফোন নম্বর ব্যবহার করে। তবে হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ হলেও বন্ধু তালিকায় না থাকা ব্যক্তিরা পরিচিতদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানতে পারেন না। এ সমস্যা সমাধানে হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল লিংক যুক্তের সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে মেটা। সুবিধাটি চালু হলে হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল থেকেই সেই ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য অন্যরা দেখতে পারবেন।

মূলত ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার একটি উপায় হচ্ছে, যাতে ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকৃত ব্যবহারকারীকে আলাদা করা যায়। হোয়াটসঅ্যাপে ফেসবুক প্রোফাইল লিংক যোগ করার এই নতুন ফিচার মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও সংযুক্ত করে তুলবে। আর আপনি চাইলে এক জায়গা থেকেই নিজেদের পরিচয়, সংযোগ এবং সামাজিক উপস্থিতি সহজে শেয়ার করতে পারবেন।

জানা গেছে, হোয়াটসঅ্যাপের এ ফিচারটি সক্রিয় হলে ব্যবহারকারীরা Settings → Profile → Edit অপশনে গিয়ে নিজেদের Facebook প্রোফাইলের URL যোগ করতে পারবেন। এরপর সেই লিংকটি প্রোফাইলের কনট্যাক্ট ইনফরমেশন অংশে দৃশ্যমান হবে। আপনি চাইলে এক ক্লিকেই সেই লিংকে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফেসবুক প্রোফাইলে পৌঁছে যাবেন। এ প্রক্রিয়াটি ইনস্টাগ্রাম লিংক যুক্ত করার মতোই সহজ হবে। এটি নির্ধারণ করতে পারবেন তাদের ফেসবুক লিংক, শুধু কনট্যাক্টস বা কেউই দেখতে পাবে না।

বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েডের হোয়াটসঅ্যাপ বেটা সংস্করণ (v2.25.29.16) ফিচারটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে এটি এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। কিছু ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানো হবে। আর কিছু বেটা পরীক্ষক ইতোমধ্যে এ সুবিধা পাচ্ছেন, আবার অনেকে এখনো পায়নি।

ফেসবুক লিংক যাচাই করা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে মেটা অ্যাকাউন্ট সেন্টারের মাধ্যমে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল যাচাই করতে পারবেন। ভ্যারিফায়েড লিংকের পাশে থাকবে ছোট একটি ফেসবুক আইকন, যা নির্দেশ করবে যে দুই প্ল্যাটফর্মের অ্যাকাউন্ট একই ব্যক্তির। অন্যদিকে ভ্যারিফায়েফ লিংকগুলো সাধারণ ইউআরএল আকারে দেখা যাবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

img

আইআরজিসির হয়ে বিলিয়ন ডলারের শ্যাডো ব্যাংকিং চালাচ্ছে দুই ব্রিটিশ কোম্পানি

প্রকাশিত :  ০৯:৪৯, ০৮ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০২, ০৮ মার্চ ২০২৬

ব্রিটেনের দুটি কোম্পানি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বৈশ্বিক ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ বা সমান্তরাল ব্যাংকিং কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে, লন্ডনে নিবন্ধিত এই কোম্পানি দুটি মূলত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের ফ্রন্ট কোম্পানি হিসেবে কাজ করছে, যারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ‘জেডসেক্স এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedcex Exchange Ltd) এবং ‘জেডক্সিওন এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedxion Exchange Ltd) নামের এই প্রতিষ্ঠান দুটি লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেন এলাকার একটি বিলাসবহুল ভবনের ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধিত। নথিপত্রে এদের ব্যবসা ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো ভৌত অস্তিত্ব নেই। 

মার্কিন অর্থ দপ্তরের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী অফিস (OFAC) চলতি বছরের শুরুতেই কোম্পানি দুটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জানিয়েছে, জেডসেক্স ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করেছে, যার বড় অংশই আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এই কোম্পানি দুটি ইরানি ধনকুবের বাবাক জানজানির সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনে অর্থ সহায়তার দায়ে জানজানির ওপর আগেই ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ব্লকচেইন গোয়েন্দা সংস্থা টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত ওয়ালেট ও অফশোর মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে শত কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে। ওএফএসি-র মতে, কোম্পানিগুলো সরাসরি আইআরজিসি-কে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও বস্তুগত সহায়তা প্রদান করে আসছিল।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার চাপ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের শ্যাডো ন্যাশনাল সিকিউরিটি মিনিস্টার অ্যালিসিয়া কার্নস প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ব্রিটিশ মাটি ও আইন ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক একটি সংগঠনকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই কোম্পানি দুটি এবং আইআরজিসি-র ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সরকারের এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৮ সালে সুইফট ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ইরান বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই দেশটি ‘হাওলা’ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে সমান্তরাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে তাদের সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন নিশ্চিত করছে।

যদিও কোম্পানি দুটির নিবন্ধিত ঠিকানার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিএসকিউ গ্রুপ’ জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পর তারা কোম্পানি দুটির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই মুহূর্তে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর