img

আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক শান্ত

প্রকাশিত :  ১৩:৪৬, ০১ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৫৯, ০১ নভেম্বর ২০২৫

আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক শান্ত

বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্ব আবারও নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত সাদা পোশাকে টাইগারদের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। শনিবার (১ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)

চলতি বছরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন শান্ত। এরপর আর কোনো টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। আগামী মাসে ঘরের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এই সিরিজের আগে আলোচনা শুরু হয় নতুন টেস্ট অধিনায়ক কে হবেন তা নিয়ে।

গুঞ্জন ছিল টেস্ট অধিনায়ক হতে ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। তবে সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে টাইগারদের লাল বলের নেতৃত্ব থাকছে শান্তর কাঁধেই। ২০২৫-২০২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

টেস্টের অধিনায়কত্ব ফের শান্তকে দেওয়া প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, 'টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে তার ধৈর্য, প্রতিশ্রুতি এবং ভালো বোঝাপড়া আছে। তার নেতৃত্বে আমরা দলের মধ্যে উন্নতি ও আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করেছি। বোর্ড মনে করে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা আমাদের নতুন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।'

নতুন করে টেস্টের অধিনায়কত্ব বেশ খুশি শান্ত। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি এবং বোর্ড আমার অধিনায়কত্বে যে বিশ্বাস ও আস্থা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।'

তিনি আর বলেন, 'টেস্ট ক্রিকেটে আমার দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের বিষয়। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।'

২০২৩ সালে মুমিনুল হকের পর টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পান শান্ত। এখন পর্যন্ত ১৪ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।


img

উজবেকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান কাপ শেষ বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১১:৪৮, ০৯ মার্চ ২০২৬

নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দারুণ লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্তির কাছে হার মানতে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে উজবেকিস্তান। এই হারের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এর ফলে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগও শেষ হয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতেই।

আগের ম্যাচের একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ শুরু থেকেই উজবেকদের প্রবল চাপের মুখে পড়ে। বারবার রক্ষণে হানা দেওয়া উজবেকিস্তানকে শুরুর দিকে দারুণ পজিশনিংয়ে একবার নিশ্চিত গোলবঞ্চিত করেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। তবে এরপর একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।

ফল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়নি উজবেকদের। ম্যাচের ১০ মিনিটেই দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। গোল হজমের পরও উজবেকদের চাপ সামলাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২৩ মিনিটে মারিয়া মান্দার অসাধারণ এক ট্যাকেলে নিশ্চিত গোল হজম থেকে বাঁচে দল।

এরপর সমতায় ফেরার দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ৩১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ একটি শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা জনিমকুলোভা। আর ৪২ মিনিটে বক্সে ঢুকে কোহাতি কিসকুর জন্য দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন তহুরা খাতুন, কিন্তু বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন কোহাতি। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে হানা দেন ঋতুপর্ণারা, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি আর পাওয়া হয়নি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে এসে ক্লান্তির চরম খেসারত দিতে হয় ডিফেন্ডারদের।

৬২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বক্সের ভেতর উমিদা জোইরোভার বাড়ানো বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান ২-০ করেন উজবেক ফরোয়ার্ড দিলদোরা নোজিমোভা। এই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ৬৬ মিনিটে বাংলাদেশের জালে তৃতীয়বার বল জড়ায় উজবেকিস্তান। এই গোলটিও আসে দিলদোরা নোজিমোভার পা থেকে। বলের পেছনে ছুটতে থাকা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের তখন বেশ পরিশ্রান্ত দেখাচ্ছিল।

৭০ মিনিটে দুর্দান্ত গোলকিপিং করা মিলির হাত থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোল করে বসেন উজবেকিস্তানের আসালকন আমিনজোনোভা। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করেন।

৮২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বদলি খেলোয়াড় সুরভীর নেওয়া দারুণ একটি জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন উজবেক গোলরক্ষক জনিমকুলোভা। শেষ পর্যন্ত ৮৮ মিনিটে নিলুফার কুদ্রাতোভার গোলে কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় উজবেকিস্তান। বক্সের ভেতর কুদ্রাতোভার নেওয়া শট মিলি চেষ্টা করেও ঠেকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

খেলাধূলা এর আরও খবর