মিরপুর টেস্টে খেলতে নেমেই একটা মাইলফলক ছুঁয়েছেন মুশফিকুর রহিম। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলে সেঞ্চুরি করেন তিনি । বিশ্বের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেষ্টে সেঞ্চুরির রেকর্ডও এখন তার।
ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্টে মুশফিকুর রহিম খেলেন ২০০ বলের অসাধারণ ইনিংস, যেখানে তিনি অপরাজিত থেকে ১০১* রান সংগ্রহ করেন। ৫টি চারের মার ও ৫১.২৮ স্ট্রাইক রেটে গড়া এই ব্যাটিং দর্শকদের বিমোহিত করেছে। কঠিন পরিস্থিতি সামলে দলকে স্থিতিশীলতা এনে দেন এ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। দিনের খেলা শেষে তাঁর শতকে ভর করে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ২৯৪ রান তুলে দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে যায়।
মুশফিকের সঙ্গে মিডল অর্ডারের লিটন দাস ও মমিনুল হক দারুণ সমর্থন দেন। মমিনুল ১২৮ বল মোকাবিলা করে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন এবং চতুর্থ উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। অপরদিকে, লিটন দাস ১০৪ বলে ৫৪* রান করে দ্বিতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে মুশফিকের সঙ্গ দিচ্ছিলেন।
ইনিংসের শুরুতে ওপেনার সাদমান ইসলাম (৩৫) এবং মাহমুদুল হাসান জয় (৩৪) ভালো শুরু করলেও বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও মাত্র ৮ রান করে আউট হয়ে ফেরেন।
আয়ারল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। তিনি একাই বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে আউট করেন সাদমান (৫২), জয় (৮৩), শান্ত (৯৫) ও মমিনুল (২০২)। ২৬ ওভার বল করে ৮২ রানে তার ঝুলিতে জমে ৪ উইকেট। দলের অন্য বোলাররা উইকেটের দেখা পাননি।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ৯১.৩ ওভার শেষে ২৯৪/৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের আগে শেষ করে। মুশফিক-লিটনের অপরাজিত জুটিকে সামনে রেখে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বড় সংগ্রহের প্রত্যাশায় রয়েছে স্বাগতিকরা।
কয়েক দিন আগেই ২২ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল আর্সেনাল। গানার্সদের সামনে সুযোগ ছিল একই মৌসুমে ঘরোয়া ও ইউরোপসেরার ‘ডাবল’ জয়ের ইতিহাস গড়ার। কিন্তু মিকেল আর্তেতার সেই স্বপ্নপূরণ হতে দিল না প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং এরপর আরও ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল জয়সূচক গোল না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আর্সেনালকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপীয় শিরোপা ধরে রাখে ফরাসি ক্লাবটি।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরায় পিএসজি। পুরো ম্যাচ জুড়ে ফরাসি ক্লাবটি একের পর এক আক্রমণ চালায়। আর্সেনাল মূলত মেতেছিল তাদের অতি-রক্ষণাত্মক ‘বাস পার্কিং’ কৌশলে। শেষ পর্যন্ত এই অতি-রক্ষণাত্মক ফুটবলই কাল হলো আর্তেতার দলের জন্য। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
সেখান থেকে টাইব্রেকারে দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর জেঁকে বসে পাহাড়সম চাপ। পিএসজির হয়ে গনজালো রামোস এবং আর্সেনালের ভিক্টর গিওকেরেস প্রথম শটেই গোল করেন। পিএসজি তাদের দ্বিতীয় শটেও সফল হয়। তবে আর্সেনালের ইংলিশ মিডফিল্ডার এবেরেচি এজে বল গোলপোস্টের বাইরে মারলে পেনাল্টিতেই শিরোপার সুবাস পেতে শুরু করে ফরাসিরা।
ঠিক পরের শটে পিএসজির মেন্দেসের শট রুখে দিয়ে আর্সেনালকে আবারও লাইফলাইন এনে দিয়েছিলেন গানার্স গোলকিপার ডেভিড রায়া। এরপর আর্সেনালের ডেকলান রাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি এবং পিএসজির আশরাফ হাকিমিরা যার যার শটে জাল কাঁপায়। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপসেরা হওয়ার বন্য উল্লাসে মাতে পিএসজি।