img

স্বাধীনতা দিবস - ইতিহাস সংরক্ষন প্রসঙ্গে!

প্রকাশিত :  ১২:২১, ২৮ মার্চ ২০২২

স্বাধীনতা দিবস - ইতিহাস সংরক্ষন প্রসঙ্গে!

আবার এসে গেছে আমাদের স্বাধীনতার জন্মবার্ষিকী - ৫১তে বাংলাদেশ। জাতির জীবনের অন্যতম একটি মহান দিবস। বাঙ্গালী জাতীয়তা উজ্জীবনের সেই মহান ক্রান্তিকাল। অনেক বন্ধুর পথ পরিক্রমণ করে জাতি উপস্থিত হয়েছিল সেই ২৬ সে মার্চ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার এক উদ্দ্যম প্রতয় নিয়ে। পৃথিবীর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দেশকে আমাদের মত সংগ্রাম - যুদ্ধ - চরম ত্যাগ এর মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করতে হইয়েছিল। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ এই ক্রান্তিকাল ছিল সব ধরনের সময় থেকে কঠিনতম; শতকরা ৫২ শতাংশ জনবল নিয়েও ইস্ট পাকিস্তান পরিগণিত ঐ বর্বর পাকিস্তানী শাসকদের কাছে নিছক একটা সংখ্যালঘু অঞ্চলে।  প্রথমে কেড়ে নিতে চেয়েছিল আমাদের মায়ের ভাষা - বাংলাকে, তারপর শুরু করল অর্থনৈতিক উপনিবেসকিতা - বর্ণবাদ - নিগৃহতা - শোষণ এবং বৈষম্য। কেড়ে নিতে শুরু করল এক এক করে সকল গনতান্ত্রিক অধিকার - ভোটের রেজাল্ট এর প্রতি অনিহা এবং সরকার গঠন না করতে দেয়ার টালবাহানার অন্তরালে এক জেনোসাইডের নীল নকশা প্রণয়ন। 

জাতির সেই উত্তাল সময়ে জেগে উঠতে শুরু করে এক নব্য বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধ - বাংলার শতাব্দী পুরোনো ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি অনুযায়ীই শত্রুর আগ্রাসন মোকাবেলায় যখন এগিয়ে যেতে চাইল তখন একটি অতি উৎসাহী ধর্মীয় রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় গ্রুপ, ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত একটি শ্রেণী সবার দৃষ্টির অগোচরে গোপনে হাত মিলায় ঐ বর্বর পাকিস্তানী পাঞ্জাবীদের সাথে - নিজ জাতির ইচ্ছা - আকাক্সক্ষা, শপথের এবং স্বাধিকার আদায়ের বিরুদ্ধে।

অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে জাতির সেই দুঃসময়ে এই সম্প্রদায়ের বিশ্বাসঘাতকতা ছিল এক বিশাল অনভিপ্রেত ষড়যন্ত্র। অত্যন্ত অনুতাপের সাথে আজকের একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ওদের সেই বিশ্বাসঘাতকতার রেশ জাতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না। 

বাংলাদেশ আজ অর্ধশতাব্দী যাবত স্থাপিত - স্বাধীনতা অর্জনের বেদীতে বলিদান করতে হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষদেরকে, যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে লক্ষ লক্ষ মা বোনদেরকে, নয় মাসব্যাপী আগ্রাসন এবং অত্যাচারে জাতির এবং দেশের  অবোকাঠামো, অর্থনীতি সব কিছুই ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছিল সেই বর্বর পশু পাকিস্থানী পাঞ্জাবী বাহিনী এবং ওদের আমাদের দেশের দালাল এবং দোশররা । 

সেই উত্তাল সময় অতিক্রম  করে আজ ৫১টি বছরে বাঙ্গালী জাতি পদার্পণ করেছে। গর্বে এবং প্রত্যয়ে জাতি আজ এক নতুন উন্নয়নের সোপানে চড়ে হিমালয় চূড়ার দিকে আগাচ্ছে সদর্পে। কিন্তু কেন জানি বারবার হোচট খেতে হচ্ছে জাতিকে ঐ   পুরানো হেরে যাওয়া শত্রুদের ষড়যন্ত্রে। নব্য নব্য ইজম এবং নতুন নতুন দাবার চাল চালিয়ে কেমন জানি মতিভ্রস্ট করে ফেলছে যুবসমাজ, অর্ধ বয়সী যুবক যুবতীদের সহ বালক বালিকাদের। মস্তিষ্ক হনন এর মত এক ষড়যন্ত্রের মাতমে মেতে উঠেছে ঐ গোষ্ঠী অবারিত ভাবে - উঠেপড়ে লেগেছে জাতির আগামী প্রজন্মের সন্তানদেরকে ইতিহাস বিচ্ছিন্ন করতে, দেশজ ইতিহাস এর প্রতি উন্নাসিকতা সৃষ্টি করার জন্য, স্বাধীনতার সেই অমানবিক অত্যাচারের ইতিহাসকে মিথ্যা বড় গলায় আওয়াজ করে করে প্রমানিত করতে চাচ্ছে সত্যকে মিথ্যা হিসাবে, ইনিয়ে বিনিয়ে, গানে গানে, সলোক, পুথি, গান এবং কৌতুক এর মাধ্যমে পানি ঢেলে সেই গর্বের ইতিহাস কে তরলায়ন করা হচ্ছে প্রত্যহ। অবজ্ঞায় রূপান্তারিত করা হচ্ছে জাতির সূর্য সন্তানদের আত্মত্যাগকে, যুবকদেরকে, তরুণদের শিখানো হচ্ছে ভিন দেশী বিতর্কিত ব্যক্তি, জেনোসাইড সংঘটনকারীদের বীর হিসাবে ঝান্ডা বহনকারী বিশাল মানব হিসাবে। গন আয়োজিত বিশাল সব মন্ডপে রাত দিন চলছে বাঙ্গালী জাতির প্রজ্ঞা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিতে এবং বহু জাতি এবং বহু ধর্ম, বহু বর্ণ নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান আকাঙ্খাকে সমূলে উৎপাটনের অপচেষ্ঠা। কিশোর, কিশোরী, যুবক, যুবতী, পুরুষ এবং মহিলারা অধিকাংশই আজ কেমন জানি বিচ্ছিন্ন বাংগালীত্ব এবং বাংলা কৃষ্টির  প্রতি ক্রমশ। এই জাতির চার হাজার বছরের সবচে বিশাল মাইলফলক আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ঐ স্বাধীনতা যুদ্ধের ত্যাগ এর গৌরব এর প্রতি নিয়ে এসেছে এক উন্নাসিকতা এবং সন্দেহ। আদৌ কি এসব সত্যি?  

অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে ঐ কোমলমতি মস্তিকে ভিন্ন ধরনের সন্দেহ এবং বিশ্বাসযোগ্যতা। আর যার জন্য দেশে এবং বিদেশের অভিবাসী কিশোর, কিশোরী, যুবক, যুবতী, পুরুষ এবং মহিলারা বিভ্রান্ত নিজেদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস, শৌর্য-বীর্য, ত্যাগ এবং মহিমার ব্যাপারে। জাতির গর্বে যারা গর্বিত নয় যারা দেশের জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্খার সাথে সম্পৃক্ত নয় - তারা কতটুকু দেশপ্রেমিক এবং মুখের বুলি কতটুকু বিস্বাসযোগ্য তা একটা ভাবারও বিষয়, যারা তাদের জাতির মা ও বোনদের ইজ্জৎ, সম্ভ্রম এর প্রতি উন্নাসিক এবং স্বীকার করতে উৎসুক নয় তাদের দেওয়া বক্তব্য কতটা সচ্ছল এবং সত্য এই ব্যাপারে যুবক, কিশোর, বয়স্কদের ভেবে দেখা উচিত । 

একটা প্রবাদবাক্য আছে উন্নত বিশ্বে, যে ব্যক্তি জানেনা সে কোথা থেকে এসেছে, সে কিভাবে জানবে তার জীবনে তাকে কোথায় পৌঁছুতে হবে! এটা অত্যন্ত অনভিপ্রেত হবে যদি বাঙ্গালী জাতির আগামী প্রজন্মের অব্যস্থা এক রকম হয়। ১৯৭১ আমাদের জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাইল ফলক। ১৯৭১ সাল আমাদের জাতি গোষ্ঠী এনে দিয়েছে এক নতুন পরিচয়। বাঙ্গালীরা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী - বাংলা ভাষা পৃথিবীর পঞ্চম ভাষা। কিন্তু, এত কিছু থেকেও আমরা জানিনা কেন  বারবার হোছট খাচ্ছি বিভিন্ন ভাবে - আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তেমন কোন প্রকাশনা নেয় - একাডেমিক দিক থেকে; নেই তেমন থিসিস পেপার, নেই তেমন কোন অনুসন্ধান কেন্দ্রিক পেমপ্লেট  বা এছে (রচনা) । নেই তেমন কোন বই যাতে আছে উদ্ধৎিেতর সূত্র এবং বীব্লিওগ্রাফই। যেটা পড়লে নতুন প্রজন্মের পাঠক হয়ে  ঊঠবে গবেষক এবং ঐ সব সূত্র ধড়ে ধরে বেড় করতে পারবে আরও অনেক না  জানা তথ্য - উপাত্ত এবং নিজেরাও উদ্ভূত হবে স্বাধীনতা নিয়ে লেখতে - ঐ ভাবেই আগামীতে যুগে যুগে শতাব্দী পর শতাব্দী যাবত বাঙালী জাতীর প্রজন্মরা পৃথিবীর সব আনাচে কানাচে অবস্থিত বাঙ্গালী ডিয়াস্পরা এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী আগামী জেনারেশন এর পর জেনারেশনগুলোকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দিতে পারবে। সেই সাথে আগমনী জেনারেশন তাদের পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে গর্ববোধ করবে। সেইদিনই  হয়ত আমাদের প্রজন্ম স্বাধীনতা দিবসকে উদযাপন করবে গর্ব নিয়ে। ঐ আগামী প্রজন্মের গর্বপ্রসূত সংরক্ষিত ইতিহাসভিত্তিক বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রত্যাশায় অপেক্ষায় থাকবে জাতি এটাই প্রত্যাশা ।

ইমরান চৌধুরী: লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

img

ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের অতি উচ্চাশার পরিণতি যেমন হলো

প্রকাশিত :  ১৩:৩৬, ১৮ জুন ২০২৬

একটি প্রচলিত সামরিক প্রবাদে বলা হয়, ‘শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার পর কোনো যুদ্ধপরিকল্পনাই আর আগের মতো থাকে না।’ ইরানকে ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করা।

এখন যে চুক্তির (সমঝোতা স্মারক) দোহাই দিয়ে ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন, সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে লিখিত শর্ত নেই। ইরান কেবল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের চাপে চুক্তিতে লেবাননকেও যুক্ত করা হয়েছে। যেটিকে বড় জয় হিসেবে দেখছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিল হরমুজ প্রণালি। এই জলপথ পুনরায় খুলতে গিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লক্ষ্যগুলো থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি না করলে বিশ্ববাসী মন্দার পরিণতি ভোগ করতো।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবারা লিফ বলছেন, ওয়াশিংটন ইরান সম্পর্কে খুবই অবাস্তব মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধে নেমেছিল। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিতে হামলার জন্য ইরান কতটুকু প্রস্তুত তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা একেবারে ভুল ছিল।

বারবারা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতই বিষয়টি বুঝতে পারে। আমেরিকান ভোক্তাদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় এই যুদ্ধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে গেছে।

এখন ট্রাম্প একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন লিফ। তিনি বলেন, যুদ্ধ যদি প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহেই শেষ হতো, তাহলে ট্রাম্পের হাতে অনেক বেশি প্রভাব ও কূটনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ থাকতো। এখন তিনি সেগুলোর অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন।

বর্তমানে ট্রাম্পের নিজের রাজনৈতিক দলের নেতারাই এই চুক্তিকে মানতে পারছেন না। এরইমধ্যে লুইজিয়ানার বিদায়ী সিনেটর বিল ক্যাসিডি চুক্তিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বাজে কূটনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘কবরে শুয়ে রিগানও (রোনাল্ড রিগান) এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়বেন।’ রিগান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির নেতা ছিলেন।

বিল ক্যাসিডি বলছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তারা হরমুজ প্রণালির কার্যকারিতাও বুঝে গেছে। ভবিষ্যতে নিঃসন্দেহে এই কৌশল কাজে লাগাবে। পাশাপশি এই চুক্তির আওতায় ইরান নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ পাবে। উত্তর ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের কাছেও এটি ভালো চুক্তি বলে মনে হয়নি।

ট্রাম্প বহু বছর ধরে ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বা জেসিপিওএ নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন চুক্তি দেখাচ্ছে, এতে ইরানকে আরও বেশি অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

চুক্তির বিভিন্ন দফার মধ্যে আছে- আর্থিক প্রণোদনা, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সমর্থন এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনার ভবিষ্যৎ ঠিক করতে ওমান ও ইরানকে যৌথভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া।

সমঝোতা স্মারকের নথি হাতে মাসুদ পেজেশকিয়ান (বাঁয়ে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

সমঝোতা স্মারকের নথি হাতে মাসুদ পেজেশকিয়ান (বাঁয়ে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আমাদের অর্থ নয়, এটা তাদের অর্থ। আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে এটি আটকে দিয়েছিলাম। আমাদের এটি ফিরিয়ে দিতে হবে।’ পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে ইরানের কথার প্রতিধ্বনিও আছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের কাছে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে, তাহলে ইরানেরও সে দাবি করার যুক্তি আছে।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অন্যদের কাছে এটি আছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কাছেও এটি আছে। এ অবস্থায় তাদের (ইরান) বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত কাজে এটি (ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ) ব্যবহার করতে না দিলে বিষয়টা খুব কঠোর হয়ে যায়। এখানে কিছুটা কমন সেন্স ব্যবহার করতে হবে।’

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই সমঝোতা স্মারক একটি বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত। যেটির লক্ষ্য ছিল- রাজনৈতিক মূল্য দিতে হলেও সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। বারবারা লিফ বলছেন, একটি অযৌক্তিক যুদ্ধ শেষ হতে দেখাটা স্বস্তির। তবে পরে যে আবার যুদ্ধ শুরু হবে না- চুক্তিতে সে নিশ্চয়তা বেশ কম।