img

বয়সের ছাপ দূর করার ঘরোয়া উপায়

প্রকাশিত :  ১৫:৫১, ১৭ মে ২০২৫

বয়সের ছাপ দূর করার ঘরোয়া উপায়

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকে কিছু পরিবর্তন আসতে শুরু করে। বার্ধক্যের দাগ, বলিরেখা, মুখের সুক্ষ্ম রেখা ইত্যাদি চেহারায় দেখা যায়। তবে সারা বছর যত্ন নিলে সেই ছাপকে ঠেকিয়ে রাখা অনেকটা সহজ হয়। তবে ‘যত্ন’ বলতে কিন্তু পার্লারে যাওয়া নয়।

মূলত ঘরোয়া যত্ন ও ত্বক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর। পার্লারে নানা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় বলে ত্বকের পক্ষে সেগুলো ভাল নয়।

রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘরোয়া কিছু উপাদানকে সারা বছর নিজের রূপসজ্জার রুটিনে ঢুকিয়ে ফেলতে পারলে ত্বকে বলিরেখা দূর করা যায়। হাতের কাছে থাকা নারকেল তেলই হতে পারে মুশকিল আসান।

যে কোনও অ্যান্টি এজিং ক্রিমের তুলনায় নারকেল তেলের ভূমিকা ত্বকের পক্ষে ভাল। তবে এটি হতে একেবারে খাঁটি নারিকেল তেল।

খুব তৈলাক্ত ত্বক হলে সরাসরি নারকেল তেল না মেখে তার সঙ্গে কিছু সহজলভ্য ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করতেই পারেন।

শুধু বলিরেখা নয়, ত্বকের অন্যান্য সমস্যা রুখতেও এই নারকেল তেল খুবই কার্যকর।

যেভাবে ব্যবহার করবেন:

এক টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিডার, চার-পাঁচ ফোঁটা ভার্জিন নারকেল তেল ও এক চামচ পানি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ সারা মুখে লাগিয়ে শুকোতে দিন। এ বার সারা মুখে খানিকটা ভার্জিন নারকেল তেল আলাদা করে মাসাজ করুন। সারা রাত তেল মুখে বসুক। সকালে উঠে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। যে কোনও অ্যান্টি এজিং ক্রিমের তুলনায় ত্বকের বয়স ঠেকাতে বেশি কাজে আসবে এই মিশ্রণ।

পরিষ্কার করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নেওয়ার পর তোয়ালে দিয়ে চেপে জলটা মুছে নিন। এ বার ভার্জিন নারকেল তেল গোটা মুখে মাসাজ করে শুয়ে পড়ুন। পরের দিন সকালে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। বয়সের ছাপ দূর করতে এটি বেশ কার্যকর।

লেবু দিয়ে দুধ কাটিয়ে ছানা বানিয়ে নিন। এ বার পানি ঝরানো ছানার সঙ্গে দু’টেবিল চামচ ভার্জিন নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। ছানা ও তেলের এই মিশ্রণ মুখে ভাল করে মাসাজ করে মিনিট পনেরো পর ধুয়ে নিন মুখ। সপ্তাহে তিন দিন এই মিশ্রণ মুখে মাখতে পারলে বয়সের কারণে নিষ্প্রভ ত্বকে জেল্লা আসবে সহজেই।

ত্বকের জন্য হলুদ খুবই উপকারী। হলুদের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কোলাজেন উৎপন্ন করে ত্বককে টানটান রাখে। এ ছাড়া ফ্রি র্যাডিক্যালসের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করাও ভার্জিন নারকেল তেলের অন্যতম কাজ। এক চিমটে হলুদ ও কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল মিশিয়ে সেই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক নরম তো হবেই। সঙ্গে বলিরেখাও দূর হবে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার

img

চুলের যত্নে তিলের তেল কতটা উপকারী?

প্রকাশিত :  ১০:০১, ০৫ জুলাই ২০২৬

চুলের যত্নে প্রাচীনকাল থেকেই তিলের তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চুল ও মাথার ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগাতে এই তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। সঠিক উপায়ে নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করলে চুলের একাধিক সমস্যা দূর হয়।

তিলের তেলে থাকা ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই তেল মাথায় মালিশ করলে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। এর ফলে চুল দ্রুত বাড়তে পারে।

যারা খুশকি বা শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য তিলের তেল খুবই উপকারী। এই তেলে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তিলের তেল চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে। এর ফলে চুল হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল।

অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পাকে। এ সমস্যা কমাতে তিলের তেল কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের রং ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের ক্ষতি কমায়। যারা নিয়মিত হিট স্টাইলিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করেন, তাদের জন্য তিলের তেল চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার করবেন যেভাবে 

তিলের তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হতে পারে। এজন্য প্রথমে কনুইয়ের ভাঁজে বা কানের পেছনে সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।

হালকা গরম করে তিলের তেল ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। খুব জোরে ঘষাঘষি ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হতে পারে। এই তেল সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। 

কখন মাখবেন

তিলের তেল সারারাত মাথায় রেখে দেওয়া উপকারী। তবে যাদের মাথার ত্বক খুব তেলতেলে বা ব্রণ প্রবণ, তারা ১–২ ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।