img

ঘরোয়া উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল করবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ০৯:৩৫, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

ঘরোয়া উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল করবেন যেভাবে

ব্যয়বহুল স্কিনকেয়ার পণ্যের ভিড়ে অনেকেই এখনো ঘরোয়া উপাদানেই ত্বকের যত্ন নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আমাদের ঘরে ঘরেই পাওয়া যায় এমন কিছু উপকরণ—যেমন বেসন, দই, মধু, শসা ও গোলাপজল—শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। আধুনিক স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞরাও এসব প্রাকৃতিক উপাদানের উপকারিতা স্বীকার করেন। 

গোলাপজল

ত্বক সতেজ রাখতে সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় হলো গোলাপজল ব্যবহার। মুখে স্প্রে করলেই ত্বকে এনে দেয় তাৎক্ষণিক সতেজতা আর মনোরম সুবাস। বিশেষজ্ঞরা রাতে মুখ ধোয়ার পর তুলায় গোলাপজল লাগানোর পরামর্শ দেন, যা রোমকূপ টাইট করার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।  

শুষ্ক ত্বকের জন্য দই-মধুর মাস্ক

দই ত্বককে শীতল রাখে, আর মধু কাজ করে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে। এক টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট মুখে লাগালে ত্বক হয় নরম, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে শুষ্কতা অনেকটাই কমে যায়। 

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেসন-লেবুর প্যাক

এক টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও সামান্য পানি মিশিয়ে তৈরি করুন পেস্ট। এটি অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে কম লেবু ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে আগে প্যাচ টেস্ট করাও জরুরি।  

শসা

গৃহস্থের রান্নাঘরে সহজেই মিলে এমন শসা ত্বক ঠান্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর। চোখ ও মুখে শসার স্লাইস রাখলে ফোলাভাব কমে এবং ডার্ক সার্কেল হালকা হয়। গরমের দিনে অনেকে টোনার হিসেবেও শসার রস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। 

অ্যালোভেরা জেল

প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা খুবই জনপ্রিয়। বাসায় গাছ থাকলে সরাসরি পাতার জেল মুখে লাগানো যায়। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ব্রণ ও লালচেভাব কমাতেও সাহায্য করে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যতই ক্রিম বা প্যাক ব্যবহার করা হোক, প্রকৃত ত্বক সতেজতার মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের ভেতরের সুস্থতা। পর্যাপ্ত পানি পান, ভালো ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার ওপরই নির্ভর করে ত্বকের প্রকৃত স্বাস্থ্য। ঘরোয়া উপায়গুলো এসব ফল আরও বাড়িয়ে ত্বককে দেয় প্রাকৃতিক ও নিরাপদ যত্ন।


img

চুলের যত্নে তিলের তেল কতটা উপকারী?

প্রকাশিত :  ১০:০১, ০৫ জুলাই ২০২৬

চুলের যত্নে প্রাচীনকাল থেকেই তিলের তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চুল ও মাথার ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগাতে এই তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। সঠিক উপায়ে নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করলে চুলের একাধিক সমস্যা দূর হয়।

তিলের তেলে থাকা ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই তেল মাথায় মালিশ করলে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। এর ফলে চুল দ্রুত বাড়তে পারে।

যারা খুশকি বা শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য তিলের তেল খুবই উপকারী। এই তেলে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তিলের তেল চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে। এর ফলে চুল হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল।

অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পাকে। এ সমস্যা কমাতে তিলের তেল কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের রং ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের ক্ষতি কমায়। যারা নিয়মিত হিট স্টাইলিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করেন, তাদের জন্য তিলের তেল চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার করবেন যেভাবে 

তিলের তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হতে পারে। এজন্য প্রথমে কনুইয়ের ভাঁজে বা কানের পেছনে সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।

হালকা গরম করে তিলের তেল ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। খুব জোরে ঘষাঘষি ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হতে পারে। এই তেল সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। 

কখন মাখবেন

তিলের তেল সারারাত মাথায় রেখে দেওয়া উপকারী। তবে যাদের মাথার ত্বক খুব তেলতেলে বা ব্রণ প্রবণ, তারা ১–২ ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।