img

রং করা চুলের যত্ন নেবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ০৯:০২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রং করা চুলের যত্ন নেবেন যেভাবে

এখন ফ্যাশানের নতুন ট্রেন্ড বাহারি রঙয়ের চুল । কমবেশি সবাই এখন চুলে কালার বা হাইলাইট করাতে ভালোবাসেন। কিন্তু এই কালার করা চুলের জন্য প্রয়োজন বাড়তি যত্ন, নাহলে চুল হয়ে যেতে পারে রুক্ষ।

কালার বা হাইলাইট করা চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো কেমিক্যাল, হিট স্টাইলিং ও পরিবেশের প্রভাব, যা চুলের প্রাকৃতিক তেল ও প্রোটিন কমিয়ে দেয়। নিয়মিত যত্ন না নিলে চুল ভেঙে যাওয়া, ঝরে যাওয়ার মতো ঘটনা আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিতে পারে।

তাই কালার করা চুলে সালফেট ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, যা চুলের রঙ দীর্ঘস্থায়ী রাখে। প্রতিবার শ্যাম্পুর পরে ময়শ্চারাইজিং কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। চুলে সরাসরি গরম পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সপ্তাহে ১-২ বার ডিপ কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারলে ভালো।

কালার বা হাইলাইট করা চুলে ব্লো ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার, কার্লিং আয়রন যতটা পারা যায় কম ব্যবহার করুন। যদি ব্যবহার করতে হয়, হিট প্রোটেক্টেন্ট স্প্রে ব্যবহার করুন। প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার চুলের ফাঁকা এবং দু’মোড়ানো অংশ কেটে ফেলুন।

চুলে নিয়মিত নারিকেল তেল, আর্গান অয়েল বা জোজোবা অয়েল ব্যবহার করুন। ব্যবহারের ২০ মিনিট পরে চুল ধুয়ে ফেলুন। এরপর চুল রোদে, ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিয়ে হবে। ভেজা চুল অস্বাস্থ্যকর।

মনে রাখবেন, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি চুলের প্রোটিন (ক্যারোটিন) ভেঙে দেয়, আর্দ্রতা কমিয়ে দেয় এবং রঙ ফিকে করে দেয়। বাজারে এখন সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মিকে ঠেকাতে পারে এমন বেশ কিছু হেয়ার স্প্রে পাওয়া যায়। সেগুলো নিয়মিত ব্যবহারে চুলের রঙ দ্রুত নষ্ট হবে না।


img

ভালো লিচু চিনবেন কীভাবে

প্রকাশিত :  ১০:৪৬, ০৭ জুন ২০২৬

দেশের বাজার এখন মিলছে রসালো ফল লিচু। স্বাদের কারণে এটি অনেকেরই পছন্দের। এ ফল খুব বেশিদিন বাজারে থাকেও না। তবে অনেক ব্যবসায়ীই বেশি লাভের আশায় রাসায়নিকযুক্ত বা বাসি লিচু বিক্রি করেন। ফলের গায়ের রং, গন্ধ এবং খোসার শক্ত ভাব লক্ষ্য করে খুব সহজেই সেরা লিচুটি বেছে নেওয়া সম্ভব।ভালো লিচু চেনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন- 

লিচু কেনার সময় প্রথমেই ফলের গায়ের রঙের দিকে নজর দিন। সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা হালকা গোলাপি রঙের লিচুগুলো বেশ মিষ্টি ও পরিপক্ব হয়। খোসার ওপর অতিরিক্ত কালো বা বাদামি দাগ থাকলে বুঝতে হবে ফলটি পচে গেছে কিংবা পুরনো। 

ফলের খোসাটি আঙুল দিয়ে আলতো করে চেপে দেখুন। টাটকা লিচু সাধারণত সামান্য শক্ত কিন্তু স্পঞ্জের মতো সামান্য নমনীয় অনুভূত হয়ে থাকে। ফলটি যদি অতিরিক্ত শক্ত হয় তাহলে বুঝতে হবে সেটি কাঁচা। খুব নরম হলে বুঝতে হবে ভেতরের অংশ পচে গেছে।

লিচুর খোসার উপরিভাগের গঠন দেখেও অনেক সময় বোঝা যায় এটি মিষ্টি কিনা। খোসার ওপরের ছোট ছোট গুটিগুলো যদি খুব ছড়ানো এবং সমতল প্রকৃতির হয় তাহলে বুঝতে হবে ফলটি পরিপক্ক হয়েছে। খোসার গায়ে কোনও ছোট ছিদ্র থাকলে সেই লিচু এড়িয়ে চলুন। কারণ এ ধরনের লিচুতে পোকা থাকার আশঙ্কা থাকে। 

বাজার থেকে লিচু কেনার সময় সবসময় ডালসহ বা গুচ্ছ আকারে থাকা ফল বেছে নেওয়া ভালো। ডালসহ লিচু অনেক বেশি সময় পর্যন্ত তাজা থাকে এবং সহজে নষ্ট হয়ে যায় না। ডালগুলো যদি একদম শুকিয়ে ভেঙে পড়ে তাহলে বুঝতে হবে ফলটি বেশ কয়েকদিন আগে গাছ থেকে পাড়া হয়েছে।

ফলের সুগন্ধ পরীক্ষার মাধ্যমেও লিচু মিষ্টি কিনা বোঝা যায় । টাটকা এবং ভালো মানের লিচুর বোঁটার কাছ থেকে মিষ্টি ও মৃদু গন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু লিচু থেকে যদি কোনও টক বা অ্যালকোহলের মতো গন্ধ বের হয় তবে বুঝতে হবে সেটি নষ্ট হতে শুরু করেছে। 

সাধারণত সুষম গোল বা ডিম্বাকৃতির এবং ওজনে ভারী লিচুগুলোর ভেতরে রসালো অংশের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। চ্যাপ্টা বা অস্বাভাবিক আকৃতির লিচুগুলোতে অনেক সময় বীজ বড় হয় এবং শাঁসের পরিমাণ কম থাকে। 

আজকাল বাজারে লিচু আকর্ষণীয় করতে কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। কেনার আগে লিচুটি হাত দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখলে বা সামান্য পানি লাগালে যদি রং উঠে আসে তবে তা কেনা উচিত নয়। প্রাকৃতিকভাবে পাকা লিচুর রঙ কখনও অতিরিক্ত চকচকে বা কৃত্রিমভাবে নিখুঁত দেখায় না। 

বাজার থেকে কেনার পর লিচুগুলো কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। সবসময় খোসা ছাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই লিচু খেয়ে নেওয়া ভালো । দীর্ঘ সময় ছিলে রাখা লিচু না খাওয়াই শরীরের জন্য উপকারী। সূত্র: টিভিনাইন