img

কোক-স্প্রাইটে ক্ষতিকর রাসায়নিদূষণ! ছ’টি দেশে পাঠানো পানীয় ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু

প্রকাশিত :  ০৫:১৯, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:২৮, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫

কোক-স্প্রাইটে ক্ষতিকর রাসায়নিদূষণ! ছ’টি দেশে পাঠানো পানীয় ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু

ইউরোপীয় বাজার থেকে  বিশ্ববিখ্যাত কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা তাদের কয়েকটি জনপ্রিয় পানীয় সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষায় ক্ষতিকর রাসায়নিক ক্লোরেট উচ্চমাত্রায় শনাক্ত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোকা-কোলার বিবৃতিতে বলা হয়, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডস থেকে এরই মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাচের পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে সমস্যাটি আপাতত ইউরোপের কিছু দেশে সীমাবদ্ধ।

তবে কোকা-কোলার মতো একটি বহুজাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে নিরাপত্তাসংক্রান্ত এমন খবরে এর প্রভাব স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে অন্যান্য অঞ্চলের ভোক্তাদের আস্থার ওপরও পড়তে পারে। বিশেষত বাংলাদেশে; যেখানে কোকা-কোলা খুব জনপ্রিয় এবং ভোক্তার আস্থা তাদের বাজারের অন্যতম শক্তি। এমন খবর শুনে কিছু ভোক্তা সতর্ক হয়ে পণ্যটি ব্যবহারে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারেন।

ক্লোরেট কী এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব

ক্লোরেট হলো একটি রাসায়নিক পদার্থ; যা সাধারণত পানি শোধন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত ক্লোরিনভিত্তিক জীবাণুনাশক থেকে উৎপন্ন হয়। এটি কিছু ক্ষেত্রে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণেও দেখা যায়। উচ্চমাত্রার ক্লোরেট শরীরে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশু ও নবজাতকদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্লোরেট শরীরে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এটি বমি, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা এবং রক্তের অক্সিজেন শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি শিশুস্বাস্থ্যের ওপর আরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইফসা) ২০১৫ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় জানায়, খাবার বা পানীয়তে ক্লোরেটের অনুমোদিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে তা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

কীভাবে এই সমস্যা শনাক্ত হলো

বেলজিয়ামের গেন্ট শহরে অবস্থিত কোকা-কোলার একটি উৎপাদন কেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষার সময় সমস্যাটি ধরা পড়ে। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাচগুলো এরই মধ্যে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেলজিয়ামের অধিকাংশ স্টোর থেকে কাচের বোতল ও ক্যান তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে ফ্রান্সের পরিস্থিতি ভিন্ন। ফ্রান্সে কোকা-কোলার শাখা জানিয়েছে, পরীক্ষায় ক্লোরেট শনাক্ত হলেও তা অনুমোদিত মাত্রার মধ্যে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ফলে ফ্রান্সে কোনো পণ্য প্রত্যাহার করা হয়নি।

কোন পণ্যগুলোতে সমস্যা শনাক্ত হয়েছে

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমস্যাগ্রস্ত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপলটাইজার, কোকা-কোলা অরিজিনাল টেস্ট, কোকা-কোলা জিরো সুগার, ডায়েট কোক, স্প্রাইট জিরো, ফান্টা এবং মিনিট মেইডের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাচ। এগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ক্লোরেট নামক ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাচগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।


বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব পড়ার শঙ্কা

বিশ্বব্যাপী কোকা-কোলার জনপ্রিয়তার কারণে এই সংকটের খবর বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘যেহেতু ইউরোপের কিছু দেশে ক্লোরেট সমস্যার প্রমাণ মিলেছে, আমাদের দেশের বাজারে প্রচলিত কোমল পানীয়ের নমুনাও পরীক্ষা করা উচিত। সাধারণত প্রায় সব কোম্পানির কোলাজাতীয় পানীয় কাছাকাছি ফর্মুলায় তৈরি। তাই ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা জরুরি।’ দেশে কোকা-কোলার বড় বাজার। তবে নিরাপত্তা নিয়ে এমন কোনো খবর ভোক্তাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোকা-কোলা বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

কোম্পানির বক্তব্য ও পদক্ষেপ

কোম্পানির এক মুখপাত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, পানীয়গুলোতে ক্লোরেটের উপস্থিতি খুবই কম এবং তা গ্রাহকদের জন্য বড় কোনো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবু গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার জন্যই সমস্যাগ্রস্ত ব্যাচগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি (এফএসএ) বিষয়টি তদন্ত করছে। সংস্থাটি জানায়, ‘যদি আমরা কোনো অনিরাপদ পণ্য শনাক্ত করি, তা বাজার থেকে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হবে এবং ভোক্তাদের সতর্ক করা হবে।’

১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ হিসেবে কোকা-কোলার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬২ সালে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্তমানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের (এএমএল) মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে বোতলজাত পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৯৯০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের বাজারে ৭০ শতাংশ দখল করে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী কোমল পানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় কোকা-কোলা।

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া। সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং আইসিডিডিআরবির মতো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে বাংলাদেশে প্রচলিত কোমল পানীয়গুলো ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর উচিত নিয়মিত তাদের পণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং কোনো সমস্যা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া।


img

বৃষ্টিতে ভিজলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিসহ মিলবে আরও ১০ উপকার

প্রকাশিত :  ১০:৩৭, ২৬ মে ২০২৬

অসহনীয় গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি অনেকের কাছেই বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ। কেউ শখ করে বৃষ্টিতে ভেজেন, আবার কেউ প্রয়োজনের তাগিদে ভিজে যান। তবে কারণ যাই হোক না কেন, বৃষ্টিতে ভেজার পর অনেকেই এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করেন।

অনেকের ধারণা, বৃষ্টিতে ভিজলেই সর্দি-জ্বর হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত সময় বৃষ্টিতে ভেজা শরীর ও মনের জন্য কিছু উপকারও বয়ে আনতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বৃষ্টিতে ভেজার সম্ভাব্য ১০ উপকারিতা-

১. চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে

বৃষ্টির পানিতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যালকালাইন উপাদান চুল পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করতে পারে। এটি মাথার ময়লা ও খুশকি দূর করতে ভূমিকা রাখে। তবে বৃষ্টিতে ভেজার পর পরিষ্কার পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

২. ত্বক সতেজ রাখে

বৃষ্টির সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, যা ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ত্বক কিছুটা কোমল ও সতেজ অনুভূত হয়।

৩. মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়

বৃষ্টির সময় মাটির যে সোঁদা গন্ধ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় “পেট্রিকর”। এই গন্ধ মন ভালো করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক বলে মনে করেন গবেষকরা।

৪. শরীর ঠান্ডা রাখে

গরমের দিনে বৃষ্টিতে ভিজলে শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমে গিয়ে স্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

৫. শ্বাসপ্রশ্বাসে স্বস্তি দেয়

বৃষ্টির সময় বাতাসে ধুলাবালি তুলনামূলক কম থাকে। এতে অনেকের শ্বাসপ্রশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।

৬. মন ভালো করে

বৃষ্টিতে ভিজলে শরীরে আনন্দ অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু হরমোনের কার্যক্রম সক্রিয় হতে পারে, যা মনকে প্রফুল্ল রাখে।

৭. ত্বকের চুলকানি কমাতে সহায়ক হতে পারে

কিছু ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিতে ভেজার পর ত্বকে আরাম অনুভূত হতে পারে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

৮. ক্লান্তি দূর করে

ঝুম বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ভেজা অনেকের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

৯. ঘুম ভালো হতে পারে

বৃষ্টির শব্দ ও ঠান্ডা আবহাওয়া শরীরকে শান্ত করে, যা ভালো ঘুমে সহায়ক হতে পারে।

১০. প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে

ব্যস্ত জীবনে বৃষ্টিতে ভেজা মানুষকে কিছুটা নির্মল অনুভূতি দেয় এবং প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিতে ভেজা বা অপরিষ্কার বৃষ্টির পানিতে থাকার ফলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা, ত্বকের সংক্রমণ কিংবা অসুস্থতা হতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভেজার পর দ্রুত শুকনো কাপড় পরা ও পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করা উচিত।

সূত্র: বোল্ডস্কাই