img

কালো জামের উপকারিতা জেনে নিন

প্রকাশিত :  ০৮:৩৭, ২৭ জুন ২০১৯

 কালো জামের উপকারিতা জেনে নিন

জনমত ডেস্ক: কালোজাম পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ গ্রীষ্মের একটি প্রিয় ফল। ছোটদের প্রিয় রসালো স্বাদের এই মিষ্টি ফল ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। চলুন জামের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা জেনে নিই।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: কালো জামে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান আছ। যেমন- ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জাম অতুলনীয়ভাবে কাজ করে। এছাড়া শরীরের হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে জাম।


ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: কালো জাম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। জামের গ্লিসামিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিসের জন্য ভালো বলে বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। কমপ্লিমেন্ট থার মেড এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনায় জানা যায় যে, জামের ডায়াবেটিক বিরোধী গুণ আছে। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে জামের বীচি রক্তের সুগার লেভেল ৩০ ভাগ পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করে। এই ফলটি ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।


হৃদরোগের ঝুঁকি: জামে এলাজিক এসিড বা এলাজিটেনিন্স, এন্থোসায়ানিন এবং এন্থোসায়ানিডিন্স থাকে। এই উপাদানগুলো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে বলে কোলেস্টেরলের জারণ রোধ করে এবং হৃদরোগ সৃষ্টিকারী প্লাক গঠনে বাধা দেয়। এছাড়া হাইপারটেনশন প্রতিরোধে সাহায্য করে জাম। কারণ এতে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম জামে ৫৫ গ্রাম পটাসিয়াম থাকে। প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে।


ইনফেকশন: জাম গাছের বাকল, পাতা ও বীজ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে আসছে। ম্যালিক এসিড, গ্যালিক এসিড, অক্সালিক এসিড এবং ট্যানিন থাকে জাম উদ্ভিদে। এ কারণেই জাম উদ্ভিদ ও এর ফল ম্যালেরিয়া রোধী, ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং গ্যাস্ট্রোপ্রোটেক্টিভ হিসেবে কাজ করে।


পরিপাক: আয়ুর্বেদিক ঔষধে জাম পাতা ব্যবহার করা হয় ডায়রিয়া ও আলসার নিরাময়ে। এছাড়াও মুখের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যার ঔষধ তৈরিতেও ব্যবহার হয় জামপাতা। জাম খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, দাঁত ও মাড়ি শক্ত ও মজবুত করে এবং দাঁতের মাড়ির ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।


ক্যান্সার: এক গবেষণায় জানা গেছে, জাম ফলের নির্যাসে রেডিওপ্রোটেক্টিভ উপাদান থাকে। জামের নির্যাস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‍্যাডিকেলের কাজ ও বিকিরণে বাধা দেয়।


মানসিক স্বাস্থ্য: কালোজাম ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে। জাম ব্রেইন অ্যালার্ট হিসেবে কাজ করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কালোজাম টিস্যুকে টান টান হতে সাহায্য করে

img

বৃষ্টিতে ভিজলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিসহ মিলবে আরও ১০ উপকার

প্রকাশিত :  ১০:৩৭, ২৬ মে ২০২৬

অসহনীয় গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি অনেকের কাছেই বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ। কেউ শখ করে বৃষ্টিতে ভেজেন, আবার কেউ প্রয়োজনের তাগিদে ভিজে যান। তবে কারণ যাই হোক না কেন, বৃষ্টিতে ভেজার পর অনেকেই এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করেন।

অনেকের ধারণা, বৃষ্টিতে ভিজলেই সর্দি-জ্বর হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত সময় বৃষ্টিতে ভেজা শরীর ও মনের জন্য কিছু উপকারও বয়ে আনতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বৃষ্টিতে ভেজার সম্ভাব্য ১০ উপকারিতা-

১. চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে

বৃষ্টির পানিতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যালকালাইন উপাদান চুল পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করতে পারে। এটি মাথার ময়লা ও খুশকি দূর করতে ভূমিকা রাখে। তবে বৃষ্টিতে ভেজার পর পরিষ্কার পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

২. ত্বক সতেজ রাখে

বৃষ্টির সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, যা ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ত্বক কিছুটা কোমল ও সতেজ অনুভূত হয়।

৩. মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়

বৃষ্টির সময় মাটির যে সোঁদা গন্ধ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় “পেট্রিকর”। এই গন্ধ মন ভালো করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক বলে মনে করেন গবেষকরা।

৪. শরীর ঠান্ডা রাখে

গরমের দিনে বৃষ্টিতে ভিজলে শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমে গিয়ে স্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

৫. শ্বাসপ্রশ্বাসে স্বস্তি দেয়

বৃষ্টির সময় বাতাসে ধুলাবালি তুলনামূলক কম থাকে। এতে অনেকের শ্বাসপ্রশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।

৬. মন ভালো করে

বৃষ্টিতে ভিজলে শরীরে আনন্দ অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু হরমোনের কার্যক্রম সক্রিয় হতে পারে, যা মনকে প্রফুল্ল রাখে।

৭. ত্বকের চুলকানি কমাতে সহায়ক হতে পারে

কিছু ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিতে ভেজার পর ত্বকে আরাম অনুভূত হতে পারে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

৮. ক্লান্তি দূর করে

ঝুম বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ভেজা অনেকের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

৯. ঘুম ভালো হতে পারে

বৃষ্টির শব্দ ও ঠান্ডা আবহাওয়া শরীরকে শান্ত করে, যা ভালো ঘুমে সহায়ক হতে পারে।

১০. প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে

ব্যস্ত জীবনে বৃষ্টিতে ভেজা মানুষকে কিছুটা নির্মল অনুভূতি দেয় এবং প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিতে ভেজা বা অপরিষ্কার বৃষ্টির পানিতে থাকার ফলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা, ত্বকের সংক্রমণ কিংবা অসুস্থতা হতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভেজার পর দ্রুত শুকনো কাপড় পরা ও পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করা উচিত।

সূত্র: বোল্ডস্কাই