img

শীতে বাড়িতেই তৈরি করুন সুস্বাদু গুড়ের কেক

প্রকাশিত :  ০৬:২১, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতে বাড়িতেই তৈরি করুন সুস্বাদু গুড়ের কেক

শীতের মৌসুমে গুড় দিয়ে পিঠা-পুলি বানানোর ধুম লেগেই থাকে, তবে এবার একটু ভিন্ন ভাবনা-গুড়ের কেক বানিয়ে দেখুন। ড্রাই ফ্রুটস বা বাটার রিচ কেকের স্বাদ তো খেয়েছেন, এবার একটু ট্রাই করুন প্রাকৃতিক গুড়ের মিষ্টত্বে ভরা কেক।

আর শীতে বেশ কয়েক বছর ধরে বাজারে ট্রেন্ডিং চালু রয়েছে গুড় দিয়ে কেক তৈরি। এই কেকের মধ্যে অন্যতম হলো গুড়ের কেক, আর সামাজিক মাধ্যমেও এর খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এবার বাড়িতেই সহজভাবে নরম ও সুস্বাদু গুড়ের কেক বানিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করুন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, যেভাবে ঘরে বসেই তৈরি করবেন মজার কেক—

ময়দা ১ কাপ। ডিম ২টি। গুঁড়া দুধ ১ কাপ। নলেন গুড় ১ কাপ। কোকো পাউডার ২ টেবিল চামচ। বেকিং পাউডার আধা চা চামচ। বেকিং সোডা আধা চা চামচ। ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা চামচ। মাখন আধা কাপ। এবং লবণ স্বাদমতো।

প্রথমত বেকিং সোডা, কোকো পাউডার, বেকিং পাউডার, লবণ, ময়দা, চিনি এবং গুঁড়া দুধ ভালো করে মিশিয়ে চালুনি দিয়ে ছেঁকে নিন। এরপর মাখন ও গুড় বিট করে তাতে ডিম ও ভ্যানিলা এসেন্স যোগ করে হ্যান্ড বিটার দিয়ে ভালোভাবে বিট করুন।

এবার স্লো বিটারে ময়দা, বেকিং পাউডার ও বেকিং সোডা মিশ্রণটি ধীরে ধীরে মেশান। এরপর নলেন গুড় ও দুধ দিয়ে মিশ্রণটি মিহি করুন। এবার কেক প্যানে ফয়েল বিছিয়ে কেকের ব্যাটারটি ঢেলে দিন এবং চামচ দিয়ে হালকাভাবে নেড়ে নিন। ওপরে ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে দিন। এবার ওভেনে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ২৫-৩০ মিনিট পর বের করুন। এরপর ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।


img

পান্তা ভাতে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রকাশিত :  ১০:২১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পান্তা ভাত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে গরমের সময়ে অনেকেই খাদ্যতালিকায় এ খাবারকে গুরুত্ব দেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবেও পান্তা-ইলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

এক সময় গ্রাম-বাংলার কৃষকের সকালের প্রধান খাবার ছিল পান্তা ভাত। সারাদিন মাঠে কাজের শক্তি জোগাতে পান্তা ভাত দারুণ কাজ করে শরীরে। এখনও অনেক পরিবারে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

এ খাবারে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও। গরম ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান যারা তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। 

পান্তা ভাতকে অনেকেই শরীরের প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবে মনে করেন। গরমের দিনে এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতেও শক্তি জোগায়।

হলিক্রস মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস জানিয়েছে, যারা অনিদ্রায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। তিনি জানান,  পান্তা ভাতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২। 

এ পুষ্টিবিদ আরও জানান, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে যেখানে প্রায় ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ পান্তা ভাতে পাওয়া যায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম আয়রন। একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়- সাধারণ চালে ২১ মিলিগ্রাম থাকলেও পান্তা ভাতে তা প্রায় ৮৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

এছাড়া ত্বকের সতেজতা ও তারুণ্য ধরে রাখতেও পান্তা ভাত সহায়ক বলে মনে করা হয়।

তাই গরমের এই সময়ে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণের সঙ্গে এক প্লেট পান্তা ভাত হতে পারে স্বাদ ও সুস্থতার দারুণ সমন্বয়।