img

নতুন চুল গজানোর 8 টি উপায়

প্রকাশিত :  ০৯:৩৬, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

নতুন চুল গজানোর 8 টি উপায়

চুল পড়ে যাচ্ছে অথবা মাথার চুল পাতলা \r\nহয়ে যাচ্ছে এমন সমস্যা অনেকেরই। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দুটি কাজ করতে\r\n হবে। একটি হলো চুল ঝরে যাওয়া রোধ করা, অপরটি নতুন চুল গজানো। চুল ঝরে \r\nযাওয়া রোধ করা নিয়ে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন লেখালেখি দেখি। সেই তুলনায় \r\nনতুন চুল গজানো নিয়ে জানার সুযোগটা কম। তাহলে চলুন জেনে নিই কিভাবে নতুন \r\nচুল গজানো সম্ভব।

বয়স বাড়ার কারণে অথবা বংশগত বা পরিবেশের\r\n প্রভাবে আমাদের চুল পড়ে যেতে থাকে। এ কারণে আমাদের মন তো খারাপ হয়ই, \r\nআবার মনে হয় যদি কৈশোরের মতো চুল আবার হতো কোনো ভাবে। আমাদের মাথার ত্বক \r\nবা স্ক্যাল্পে যদি আমরা উদ্দীপনা দিতে পারি, তাহলে মাথায় নতুন চুল গজানো \r\nসম্ভব। প্রতিটি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা রয়েছে। এটাকে যদি \r\nবাড়ানো যায়, তাহলেও নতুন চুল গজানো সম্ভব।

\"\"
\r\n

প্রথম পদ্ধতি

প্রথম পদ্ধতি হলো ম্যাসাজ করা। নিয়মিত \r\nম্যাসাজ করতে হবে। এতে করে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং স্ক্যাল্প \r\nউদ্দীপিত হবে। এক টেবিল চামচ ভিটামিন ই নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে থাকুন। ভিটামিন ই চুলের জন্য প্রয়োজনীয় নিউট্রিশন এর যোগান দেয়। ভিটামিন ই এর সাথে চা এর নির্যাস যোগ করতে পারেন। এই দুটো ভালো ভাবে মিশিয়ে হাতের তালু এবং আঙ্গুলের সাহায্যে পুরো মাথার চুলের গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে নিন। ৫-৬ মিনিট ম্যাসাজ করুন। তারপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন। চুলগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে সম্পূর্ণ চুল আঁচড়ে নিন।

\"নতুন

কিছুক্ষণ পর সাধারণ ভাবে শ্যাম্পু এবং \r\nকন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চুল গজানোর জন্য দিনে ৩ বার ম্যাসাজ করতে হবে এই \r\nনিয়মে। কিন্তু বারবার শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি

চুলের গোঁড়ায় হেয়ার ফলিকল থাকে। ভাইব্রেশনের মাধ্যমে যদি ফলিকল উদ্দীপিত করা যায় তবে নতুন চুল গজানো সম্ভব। বাজারে ভাইব্রেটিং ম্যাসেজার কিনতে পাওয়া যায়।

\"নতুন

এর সাহায্যে আপনি স্ক্যাল্পে চক্রাকারে \r\nঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাথায় ভাইব্রেটিং ম্যাসাজ নিতে পারেন। যে জায়গায় বেশি \r\nচুল পড়ে যাচ্ছে, তাতে বেশি মনোযোগ দিন। এভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট আপনার স্ক্যাল্প ভাইব্রেট করুন।

ভালো ফল পেতে এটাও আপনাকে দিনে ৩ বার করতে হবে।

তৃতীয় পদ্ধতি

এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে যেটা আপনার\r\n স্ক্যাল্পের মৃত কোষগুলো ঝরে যেতে সাহায্য করবে। এই মৃত কোষগুলো \r\nস্ক্যাল্পের ফলিকল ব্লক করে রাখে, যে কারণে নতুন চুল গজাতে পারে না। কেননা \r\nতখন স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। অল্প পরিমাণ শ্যাম্পু নিয়ে মাথায় \r\nম্যাসাজ়ের মত করে লাগিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

\"নতুন

এটা দিনে একবার করতে হবে।

চতুর্থ পদ্ধতি

এই পদ্ধতি হল মেডিকেশন। \r\nচুলের জন্য ওষুধ। অনেক গবেষণার পর ফেনাস্টেরাইড আর মিনোক্সিডিল নামের দুটো \r\nওষুধ চুল গজানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ওষুধের-ই সাইড ইফেক্ট আছে। \r\nমিনোক্সিডিল এর দুইটা কনসেনট্রেশন পাওয়া যায়। ২% আর ৫%। ২% মিনোক্সিডিল \r\nমেয়েদের জন্য আর ৫% মিনোক্সিডিল ছেলেদের জন্য। এটা বাজারে জেনোগ্রো নামে পাওয়া যায়। স্প্রে করে মাথার স্ক্যাল্পে দিতে হয়।

এই পদ্ধতি ছাড়াও আপনাকে খাদ্যাভ্যাস আর কিছু সাধারণ যত্ন নিতে হবে।

খাদ্যাভ্যাস

(১) প্রোটিন

পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন – আমাদের চুল মূলত কেরাটিন দিয়ে গঠিত।\r\n এটি অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি এক ধরণের প্রোটিন। তাই নতুন চুল গজানোর \r\nজন্যে অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করতে হবে। মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম – আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই এগুলোর অন্তত একটি রাখার চেষ্টা করুন।

\"নতুন

সয়াবিন, মটরশুঁটি, কলা, বাদাম ইত্যাদি থেকেও পেতে পারেন। তবে নন-ভেজিটেরিয়ান খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

(২) আয়রন আর জিঙ্ক

আয়রন আর জিঙ্ক আপনার মাথার কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে\r\n নিতে সহায়তা করবে আর নতুন টিস্যু তৈরিতে এবং ক্ষয়রোধে সহায়তা করবে। \r\nপরিমিত পরিমাণে আয়রন আর জিঙ্ক নতুন এবং দ্রুত চুল গজানোর জন্যে সহায়ক \r\nভূমিকা পালন করে। মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস, দুধে আপনার প্রয়োজনীয় জিংক আর আয়রন বিদ্যমান।

(৩) ভিটামিন সি

পেয়ারা, লেবু, কমলা, আনারস, কামরাঙা, কাঁচা মরিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং গজানোর জন্য সহায়ক।

\"নতুন

(৪) কালোজিরা

কালোজিরা নতুন চুল গজানোর জন্যে সহায়ক। মাথায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করা আর খাবারে কালোজিরা ব্যবহার খুব ভালো ফল দেয়।

\"নতুন

কিছু সাধারণ যত্ন

১. নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা এবং আঁচড়ানো। কিন্তু অতিরিক্ত আঁচড়ানো চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।

২. পেঁয়াজ এর রস চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন | নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাবে।

\"নতুন

৩. মেহেদি পাতা কিছু দিন ঘন ঘন ব্যবহার করুন। পাতা বেটে লাগিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

\"নতুন

৪. শুকনা আমলকি পানিতে ভিজিয়ে লাগাতে পারেন।

৫. খাঁটি কালো জিরা তেল বা নির্যাস বেশি বেশি ব্যবহার করতে পারেন।

\"নতুন

কথায় বলে যতনে রতন মেলে। নিয়মিত যত্ন নিন, পদ্ধতিগুলো মেনে চলুন। দেখবেন আপনার মাথায় নতুন চুল গজাতে শুরু করেছে।

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

মডেল- ফারিয়া ফিরোজ

img

বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো সাধারণ ইঁদুরেও কি হান্টা ভাইরাসের জীবাণু থাকতে পারে?

প্রকাশিত :  ০৭:১৪, ১৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২২, ১৫ মে ২০২৬

দৈনন্দিন জীবনে ইঁদুরকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট বন্য ইঁদুর মারাত্মক ভাইরাস বহন করতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো হান্টা ভাইরাস। এটি মানুষের জন্য প্রাণঘাতী সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘর, পুরোনো গুদাম, টিনশেড বা স্টোররুম খোলার সময় ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ইঁদুর এই ভাইরাস ছড়ায় না; নির্দিষ্ট প্রজাতি ও অঞ্চলের ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।

অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুচিস্মিতা রাজামান্যা জানান, শহরের সাধারণ ইঁদুর সাধারণত এই ভাইরাসের বাহক নয়। বরং কিছু বন্য ইঁদুর, যেমন ডিয়ার মাউস ও ফিল্ড মাউস, বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু এলাকায় এসব ইঁদুর নিজেরা অসুস্থ না হলেও ভাইরাস বহন করতে পারে এবং তাদের মল, প্রস্রাব বা লালা থেকে তা মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় ধুলাবালির সঙ্গে ভাইরাস বাতাসে মিশে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পুরোনো ঘর বা স্টোররুম পরিষ্কার করার সময় শুকনো ঝাড়ু বা ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে ভাইরাসযুক্ত কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বরং জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা উচিত।

হান্টা ভাইরাস সংক্রমণ খুব বেশি দেখা না গেলেও এটি গুরুতর হলে দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে। শুরুতে সাধারণ ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দেয়—জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও মাথাব্যথা। পরে অবস্থার অবনতি হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে, যা মারাত্মক আকার নিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বাগান, শেড বা পুরোনো ঘরে ইঁদুরের উপস্থিতি থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ঘরের ফাঁক বন্ধ রাখা, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং পরিষ্কারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বার্তা হলো—ইঁদুর নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও নিরাপদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসই এই ঝুঁকি কমাতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া