img

ত্বক ঝুলে যাওয়া রোধে নারকেল তেলের ব্যবহার

প্রকাশিত :  ১৪:৩৩, ২৮ মে ২০২৩

ত্বক ঝুলে যাওয়া রোধে নারকেল তেলের ব্যবহার

৩০ বছরের পর থেকে অনেকের ত্বকেই বলিরেখা পড়তে শুরু করে। বয়স যত বাড়তে থাকে চামড়া তত ঝুলতে থাকে। এ কারণে ওই বয়সের পর থেকেই ত্বকের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক ঝুলে পড়া প্রতিরোধে ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল।

নারকেল তেল :  এটি ত্বকের কোলাজিন বৃদ্ধি, নতুন সেল তৈরিকে ও ত্বককে শক্তভাবে ধরে রাখতে সাহায্য করে। নারকেল তেল ত্বককে ময়েশ্চারাজ ও মসৃণ করে এবং ত্বককে স্বাস্থ্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

করণীয় :  প্রথমে একটি ভালো ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে, ভালো মতো মুখ মুছে শুকিয়ে নিন। এরপর ৪/৫ ফোঁটা নারকেল নিয়ে আলতো হাতে পুরো মুখে ও গলায় ম্যাসাজ করে সারারাত রেখে সকালে মুখ ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এটা করতে পারেন। এতে ত্বক ঝুলে যাওয়া রোধ হবে।

অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও নারকেল তেল : অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে থাকা অ্যাসিডিটি ত্বকের পিএইচ স্তর ধরে রাখতে সহায়তা করে।

করণীয় :   ১ টেবিল চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও ১ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে তুলা দিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে শুকাতে দিন। শুকানোর পর কয়েক ফোটা ভার্জিন নারকেল তেল দপুরো মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুণ। সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন রাতে লাগাতে পারবেন।

ক্যাস্টর অয়েল ও নারকেল তেল :  ক্যাস্টার অয়েলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ইনফ্লেমেটরি থাকায় ত্বকের সেলগুলোকে ধরে রাখে এবং ত্বকে বলিরেখা ও বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

করণীয় :  ৩/৪ ফোটা ক্যাস্টার ওয়েল ও ৩/৪ ফোটা অর্গানিক নারকেল তেল মিশিয়ে ভালো করে মুখে ম্যাসাজ করুন এবং সারারাত রেখে দিন। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক হবে বলিরেখামুক্ত।

মধু ও নারকেল তেল : মধুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রুক্ষ ত্বককে মসৃণ করে ও ত্বক ঝুলে যাওয়া রোধ করে।

করণীয় : ১ টেবিল চামচ অর্গানিক নারকেল তেল ও ১/২ টেবিল চামচ মধু দিয়ে ত্বকের বলিরেখা পড়া ও ঝুলে যাওয়া স্থানে ১ ঘন্টা লাগিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা প্রতিদিন করতে পারেন।

এছাড়াও নারকেল তেলের সাথে হলুদ অথবা নারকেল তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করে ১৫/২০ মিনিট রেখে মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের সেলগুলো শক্ত রেখে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

img

ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি

প্রকাশিত :  ১৬:৫০, ১৭ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদে মাংস সংরক্ষণ নিয়ে প্রায় সব পরিবারকেই বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। বিশেষ করে দীর্ঘ ছুটি, অতিথি আপ্যায়ন ও একসঙ্গে বেশি পরিমাণ মাংস সংরক্ষণের কারণে অনেক সময় ফ্রিজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দেখা দেয়। সঠিক নিয়ম না মানলে মাংসের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই কোরবানির মাংস দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে সংরক্ষণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

ফ্রিজের খাবার আগেই গুছিয়ে রাখা

কোরবানির আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। দীর্ঘদিন জমে থাকা পুরোনো বা অপ্রয়োজনীয় খাবার সরিয়ে ফেললে নতুন মাংস সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ফ্রিজের তাপমাত্রাও ঠিকভাবে বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভরে ফেললে ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না, ফলে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মাংস সংরক্ষণে করণীয়

কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখার আগে ভালোভাবে রক্ত ঝরিয়ে নিতে হবে। মাংস ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি থাকলে তা শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা অবস্থায় সংরক্ষণ করলে বরফ জমে মাংসের স্বাভাবিক স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। এরপর পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্র কিংবা ভালো মানের ফুড-গ্রেড পলিব্যাগে ভরে সংরক্ষণ করা উচিত। খোলা অবস্থায় মাংস রাখা একেবারেই নিরাপদ নয়।

ছোট ছোট ভাগে মাংস সংরক্ষণ

মাংস বড় আকারে না রেখে ছোট ছোট ‘ফ্যামিলি প্যাক’ আকারে ভাগ করে রাখলে ব্যবহার সহজ হয়। এতে প্রতিবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস বের করা যায় এবং পুরো মাংস বারবার গলাতে হয় না। কারণ একবার গলানো মাংস পুনরায় ফ্রিজে রাখলে এর মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি বাড়ে।

কাঁচা ও রান্না খাবার আলাদা রাখা

ফ্রিজে কাঁচা মাংস কখনো রান্না করা খাবার, ফল বা সবজির পাশে রাখা উচিত নয়। কাঁচা মাংসের গন্ধ ও জীবাণু অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য ফ্রিজে কাঁচা মাংসের জন্য আলাদা একটি নির্দিষ্ট অংশ রাখা ভালো। এতে খাবারের নিরাপত্তা বজায় থাকে।

বিদ্যুৎ গেলে ফ্রিজ বেশি না খোলা

বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই অবস্থায় ফ্রিজ বারবার খোলা ঠিক নয়। ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে দীর্ঘ সময় ভেতরের ঠান্ডা তাপমাত্রা বজায় থাকে এবং খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।

কতদিন পর্যন্ত ভালো থাকে মাংস 

সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে কোরবানির মাংস সাধারণত ফ্রিজারে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাখলে ধীরে ধীরে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ কমতে শুরু করে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাংস ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।