প্রকাশিত :  ২২:৪১, ০১ এপ্রিল ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ০১:৩৫, ০২ এপ্রিল ২০২১

ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে তরুণ মা-বাবাদের অটিজম সম্পর্কে অবহিত হওয়া খুবই জরুরি - মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর

ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে তরুণ মা-বাবাদের অটিজম সম্পর্কে অবহিত হওয়া খুবই জরুরি - মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর

জনমত রিপোর্টঃ ২রা এপ্রিল ওয়ার্ল্ড অটিজম অ্যাওয়ারনেস ডে বা বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। এ উপলক্ষে জনমত এর পক্ষ থেকে কানাডা প্রবাসী একজন অটিজম বিশেষজ্ঞ জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়!

অনলাইন এ গৃহীত এই সাক্ষাৎকারটি তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে আলোকপাত করা হয় - বিশ্বব্যাপী অটিজম এর ব্যাপকতা উপর আলোকপাত। দ্বিতীয়ত অংশে অটিজম এর হোমিওপ্যাথি ও অল্টারনেটিভ (ন্যাচারাল) চিকিৎসা সূত্রের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও অটিজম রোগ নির্ণয় এর লক্ষণ নিয়ে আলোচনা এবং তৃতীয় পর্বে নিউ ইয়র্ক এর ‘সূর্য’ নামক একটি  শিশুর অটিজম  এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম, উন্নতি ও তার তরুণ মা-বাবার অপূর্ব ঐকান্তিকতার ও এনগেজমেন্ট কাহিনী ধরা হবে।

প্রথম পর্ব:

অটিজম এর বিশ্ব ব্যাপী ছোবল: কিছু বাস্তবতা, পরিসংখ্যান এবং সচেতনতা

ব্রিটিশ মেডিকেল  এসোসিয়েশন কতৃক প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হচ্ছে যে, ইংল্যান্ডে  সাত লাখ অটিজম আক্রান্ত রোগী আছে, অর্থাৎ প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে একটি শিশু অটিস্টিক (https://www.bma.org.uk/what-we-do/population-health/child-health/autism-spectrum-disorder)].

অন্যদিকে আমেরিকান একাডেমী অফ পেডিয়াট্রিক্স এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুযায়ী সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা যাচ্ছে যে আমেরিকাতে প্রতি ৫৯ টি শিশুর মধ্যে একটি শিশু এখন অটিজমে আক্রান্ত! মাত্র আট বৎসর আগে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার আক্রান্ত শিশুর অনুপাত ছিল ৮৮ শিশুর মধ্যে একটি! [https://www.psychologytoday.com/us/blog/evidence-based-living/202001/the-latest-evidence-autism-diagnoses-and-treatment] অটিজম এই ভাবে মানব গোষ্ঠীর মধ্যে অনুপ্রবেশ করতে থাকলে তা আগামী ৩০ বৎসরের মধ্যে প্রতি পরিবারে একটি বা তার অধিক শিশু অটিজম এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে!

ভারতীয় উপমহাদেশেও অটিজম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ভারতে একশো তে একটি শিশু অটিস্টিক। বাংলাদেশেও অটিজম এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপমহাদেশে প্রতি ৯৩ শিশুর মধ্যে একটি শিশু অটিজম এ আক্রান্ত। [https://faithbangladesh.org/images/uploads/coursecontent/Hossain_et_al-2017-BMC_Psychiatry.pdf]  দুই হাজার সতেরো সালে প্রকাশিত উপরোক্ত গবেষণাপত্র মতে, অটিজম এর প্রভাব উপমহাদেশে বিপদজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও সারা ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশে দেশে  ছড়িয়ে পড়ছে।

পৃথিবীব্যাপী অটিজম একটি মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে আজ মানব জাতির সামনে আবির্ভুত ও আধুনিক বিশ্বে এটা দ্রুত একটি  ইনডিউরিং ডিসেবিলিটি (বা বৈকল্য) হিসাবে স্থান করে নিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবন নির্বাহের জন্য একটি দুরূহ চ্যালেঞ্জ হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে। প্রতিটি দেশ ও সরকারের সামনে এটা একটি অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষত: বাংলাদশে, এই শিশু-সমস্যা - অটিজমকে জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে এটাকে মোকাবেলার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ, যা প্রশংসনীয়!

অটিজম থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি সম্ভব নয় তবে অটিজম শিশুরা সমাজের সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে। অটিজম থেকে মুক্তি পাবার উপায় হচ্ছে, আর্লি ইন্টারভেনশন! যত দ্রুত, শিশুকে চিকিৎসার মধ্যে আনা যায় ও ২-৫ বৎসর একটি উৎকৃষ্ট সময়। ৬-৭ বৎসর হলে শিশুর উন্নতি হতে অনেক সময় লেগে যায় ও আর্লি ইন্টারভেনশন সম্পর্কে আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স এর একটি  গবেষণায় এটা পরিস্কার করে বল হয়েছে যে "..... early warning signs are extremely important, the authors write, because there is clear evidence that beginning treatment early – even if a diagnosis is expected, but not confirmed – leads to better outcomes. As a result, the report recommends routine autism screening for all children in their pediatric well visits.” অর্থাৎ কিনা, “অটিজম শিশুদের চিকিৎসা  জন্য পূর্ব লক্ষণগুলো বুঝতে পারাটা অবশ্য অবশ্যই জরুরী”। গবেষণা মতে, যদিও  শিশুদের ডায়াগনোসিস আশা করা যাচ্ছে, কিন্তু  পূর্ব লক্ষণগুলোর ভিত্তিতে যদি চিকিৎসা শুরু করা হয়, তাতে  অনেক ভালো ফল লাভ হবার সম্ভাবনাই বেশি।


দ্বিতীয় পর্ব :

অল্টারনেটিভ ও হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে  অটিজম চিকিৎসা সূত্র

জনাব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর অটিজম নিয়ে আজ প্রায় পঁচিশ  বছরের উপরে কাজ করে চলেছেন নিভৃতে।  এ যাবৎ ৫০টিরও বেশি অটিজম শিশুকে অনেকখানি সুস্থ করেছেন, যা রেফারেন্স সহ তার ওয়েবসাইট (Autism - NSFAGlobal.COM) এ উদ্ধৃত আছে, সাফল্য লাভকারী বেশিরভাগ শিশুই ২-৫ বৎসরের মধ্যে বয়সী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, দুবাই, সৌদি আরব, লন্ডন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নর্থ আমেরিকা বিশেষত: নিউইয়র্কে তার চিকিৎসাতে শিশুরা অনেক উন্নতি লাভ করেছে। ৫/৬ বছরের বেশি বয়সের শিশুদের নিউরো-স্ট্রাকচারাল ডেভেলপমেন্ট বা বিকাশ  সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে এবং মা -বাবাদের ভিন্ন প্রত্যাশা, না বোঝা বা চেষ্টার অভাবে যথাযথ বিকাশ লাভ করতে পারেনা। ২-৫ বৎসর বয়সের শিশুদের  ক্ষেত্রে উন্নতির হার বেশি (৮০%- ৮৫%)। সেই অর্থে ৫ - উর্ধ বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে সাফল্যের সম্ভাবনা মাত্র ৫০ শতাংশ।

জনমত: বিভিন্ন প্রেস, টিভি এবং কমিউনিটিতে অটিজম এর বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম আপনি করে চলেছেন তার সংবাদ/সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হচ্ছে - তা দেখে ও শুনে আমাদের একটু বিশদ জানতে ইচ্ছে করছে।  প্রথমত: মানুষ যেটা জানতে চাইতে পারে আপনার সম্পর্কে সেটা হলো আপনি একজন মেগা প্রজেক্ট ম্যানেজার, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক! তারপরেও আপনি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল সাইন্সে কেন এলেন? আর এ ব্যাপারে আপনি কতদূর পড়াশুনা করেছেন, কেনোই বা করেছেন ?

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: ধন্যবাদ, আমি আনন্দের সাথে এর উত্তর দেব। এটা সঠিক যে আমি একজন সফল বুয়েট প্রকৌশলী, একজন  নিউক্লিয়ার ও ইউরেনিয়াম সেক্টর প্রজেক্ট ম্যানেজার। সৌদি সরকারের তেল ও মাইনিং সেক্টর  কর্পোরেশন এর এডভাইজার এবং একজন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ইকোনোমিস্ট হিসেবে করেছি ও করছি।  কিন্তু আমার - অটিজম শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর বিশেষ ও বিরল যোগ্যতা এবং সেটা বিগত পঁচিশ বৎসর ধরে আমি নীরবে গবেষণা ও প্রাকটিস এর মাধ্যমে অর্জন করেছি! আমি গবেষণামূলক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করি। অনেক সময় নিয়ে, অটিজম বাচ্চার মা - বাবাকে একটা লম্বা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করি। এ পর্যন্ত ৫০ টি শিশুকে সফলভাবে অটিজম স্পেকট্রাম হতে উন্নয়ন করবার পরেও আজ যদি আমি বসে থাকি তাহলে আমার কনসেন্স এর কাছে হেরে যাবো! তা ছাড়া, বিগত কয়েক বৎসর ধরে একটি ব্রিটিশ স্কুল অফ হোমিওপ্যাথি, (গোচেস্টারশায়ার) হতে এনাটমি, ফিজিওলজি, নিউট্রিশন, প্যাথলজি এন্ড ডিজিজেস এবং অস্ট্রেলিয়ান হোমিওপ্যাথি কলেজ হতে হোমিওপ্যাথির উপর ডিগ্রি, ও কানাডিয়ান কলেজ অফ হোমিওপ্যাথি মেডিসিন হতে অনুমোদিত কোর্স সম্পন্ন করেছি। উল্লেখ  করতে হয় যে, এসব পড়াশুনা করার আগেই আমি ৫০ টির উপর অটিজম শিশুকে মুক্ত করেছি (বিস্তারিত জানতে উনার ওয়েবসাইট autism - nsfa global.com  এ গিয়ে Fifty amazing stories এ ক্লিক করুন)।

কেন আমি অটিজম এর জন্য যুদ্ধ করছি, এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলবো ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে নিউ ইয়র্ক এর মিলেনিয়াম টিভিতে সাক্ষাৎকারে আমি একটি ঘোষণা দিয়েছিলাম যে আমি আমার জীবনে অন্তত: ৫০০ টি অটিজম শিশুকে আমার গবেষণামূলক চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হতে সাহায্য করবো। সেই কথা দেওয়াটাই প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঞযরং নবপধসব ঃযব কল অফ মাই ওন কনসেন্স।

জনমত: ধন্যবাদ। সঙ্গত কারণে আমরা জানতে চাইবো যেখানে অটিজম এর কোনো চিকিৎসাই এখনো আবিষ্কার হয় নাই সেখানে আপনার দাবি আমরা মেনে নেবো কি করে? কোন সূত্রে আপনি এই চিকিৎসাটি পরিচালনা করেন? কেন সেই চিকিৎসাটি কার্যকর হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে হয় না? কোন সূত্র আপনার চিকিৎসার ভিত্তি! আপনার চিকিৎসা তত্ত্বের উপর একটু আলোকপাত করবেন কি ?

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: অবশ্যই! প্রশ্নটি দীর্ঘ হলেও আমি সংক্ষেপে এটার উত্তর দিতে চেষ্টা করবো। আপনি কোন কিছুকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। সঠিক শিক্ষা, গবেষণাসূত্র ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রের কোনো সমস্যারই সমাধান হয় নাই।

আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্র এখনো পর্যন্ত অটিজম এর কোনো উত্তর দিতে পারে নাই। আপাতভাবে আমি ন্যাচারাল ও অল্টারনেটিভ চিকিৎসা শাস্ত্রের সাহায্যে যতখানি পারি অটিজম এর মত একটি জটিল নিউরোলোজিক্যাল ডিজেবিলিটি সমাধানের চেষ্টা করছি। আমি ৫০ টি শিশুর উন্নতি করবার পরে আমার এটা দৃঢ় বিশ্বাস যে, হোমিওপ্যাথিক ও ন্যাচারাল অল্টারনেটিভ পদ্ধতিতে অটিজম এর উন্নতি সম্ভব, যদি কিনা শিশুকে দ্রুত গবেষণামূলক হোমিওপ্যাথি ও ন্যাচারাল চিকিৎসার মধ্যে আনা যায় এবং আর্লি ইন্টারভেনশন সম্ভব হয়। ২- ৫ বৎসর বয়স হচ্ছে এর প্রকৃষ্ট সময়। ৬-৭ বৎসরের শিশুর উন্নতি সম্ভব যদি কিনা লম্বা সময় ধরে তার চিকিৎসা করা যায়।

চিকিৎসা সূত্র: আমি অটিজম শিশুর রহস্য খুঁজতে যেয়ে মা-বাবার সম্পর্কে অনেক উপাত্ত সংগ্রহ করি আর তা ন্যাচারাল, হোমিওপ্যাথি বা অল্টারনেটিভ চিকিৎসা শাস্ত্রের সূত্র ধরে বিশ্লেষণ করি। আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রের ‘জনক’ পূজনীয় মহান হিপ্পোক্রেটাসই একথাটি প্রথম বলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘Natural Forces within us are the true healers of disease’ অর্থাৎ কিনা ‘আমাদের মধ্যে অবস্থিত প্রাকৃতিক শক্তিই আমাদের  সত্যিকারের প্রতিশোধক।’

আর মহাত্মা স্যামুয়েল হ্যানিম্যান  (হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক) হিপ্পোক্রেটাস এর কথার সূত্র ধরে হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রের মূল তত্ত্বটি আবিস্কার করেছিলেন - “The Law of similars”।  মহাত্মা হ্যানিম্যান বলেছিলেন “Similia Similibus Curentur” ।

আমি সে কথাগুলো আমার একটি পাবলিকেশনের, একটি পরিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সত্য হিসাবে উল্লেখ করে নিম্নলিখিত ভাবে উপস্থাপন করেছি যেটি CCHM জার্নাল এ প্রকাশিত হয়েছে।Universality of Hahnemann’s uniqueness and a  scientific proposition regarding the Law of similars : Hahnemann’s ‘law of similar’ is ‘....thus.. universal and current, was always prevailing, and shall prevail in its exclusivity and with all-out inclusiveness across all life-units operating in this universe and beyond, discovered or, remaining to be revealed, and shall stand to be Òthe most factual fundamental’ theory of ‘scientific healing in general’, and with specific reference to ‘homeopathic healing’. It is a ‘general truth’, ‘particular truth’, ‘relative truth’ and ‘concrete truth’, and therefore satisfies all necessary and sufficient terms and reference of a ‘Scientific truth’ – Mohammad Jahangir. https://homeopathycanada.com/blog/beyond-invisible-scientific-conviction-truth-law-similars] এই সত্য ও তত্ত্বের ভিত্তিতে আমি গবেষণা করি।

সম্পূর্ণ গবেষণাভিত্তিক এই চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য্য, মা বাবার একাগ্রতা আর অধ্যাবসায়। এই চিকিৎসা সময় এবং প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে পূর্ণতা পায়। এটি অত্যন্ত জটিল ও দুরূহ যা সম্পূর্ণভাবে ন্যাচারাল ও অল্টারনেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতিতে সমাধান করা হয়। প্রধানত: তা হোমিওপ্যাথি ও বায়োকেমিক  ফার্মাকোলজি কে অনুসরণ করে। 

জনমত: ধন্যবাদ, আপনার চিকিৎসা শাস্ত্রের ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য। একটি প্রশ্ন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সবসময় যে কোনো ক্রনিক বিষয়ে আরোগ্য লাভ করা সময় সাপেক্ষ কেন?


মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: আবারো একটি চমৎকার প্রশ্ন করলেন। ধন্যবাদ। আপনাকে বা যারা এ রিপোর্টটি পড়েছেন তাদেরকে আমি দুটি বিষয় পরীক্ষণ  ও অনুধাবন এর অনুরোধ করছি। Autism বিষয়টি জটিল। তার সমাধানও জটিল। আমি চিকিৎসা শাস্ত্রের নিগূঢ়তম  রহস্য উন্মোচন করতে চাই। আমার পদ্ধতি শিশুর জন্মের সূত্রে যেয়ে আরও গূঢ়তম কার্যকারণ অন্বেষণ করে এবং হেরিডিটি প্রোফাইল, (যতদূর পাওয়া যায়, জেনেটিক ইনফরমেশন, যেমন CODE ডিলিসন, এক্সক্লুশন বা ডুপ্লিকেশন অফ জেনেটিক কোড, ভিটামিন এন্ড মিনারেল ব্যালান্স) ইত্যাদিকে সমন্বিত করে অটিজম রহস্য উন্মোচন করতে চেষ্টা করি।

শিশুর CNS (সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম) এ এই নিউরো-বায়োলজিক্যাল ডিজ্যাবিলিটি অতি দ্রুত অসঙ্গত এবং অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন তৈরি করে! টক্সিসিটি, ভাইরাল ওভারলোড-ও অনেক অজানিত সমস্যা তৈরি করে। এক্ষেত্রে শিশুর সিস্টেম  ডিটক্সিফিকেশন প্রয়োজন হয়।

প্রতিটি বিশেষ শিশুর একটি বিশেষ কনস্টিটিউশনাল ফ্রেমওয়ার্ক মডেল তৈরি করি যার ভিত্তি হলো গাইডিং সিম্পটমস, ইন্ডিভিডুয়েলিজাসন ও টোটালিটি অফ সিম্পটমস। সেই সাথে রোগীর মিয়াজমস এর স্ট্যাটাস নির্ধারণ করা, জন্মসূত্র, ও উত্তরাধিকারিত্বর সাথে একীভূত করার মধ্যে দিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা হয়! এটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এর সাথে বংশগত, জেনেটিক এলাইনমেন্ট, শিশুর মেন্টাল ও ফিজিক্যাল এট্রিবিউট  (attributes) সমূহ  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মা-বাবাকে অসংখ প্রশ্ন করা হয়। আমার মিলেনিয়াম টিভির বক্তব্যে এই বিষয় গুলো অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলা আছে। https://www.youtube.com/watch?.v=0ZiA0_24DFo&t=167s&ab_channel=MillenniumTVUSA) (দয়া করে বক্তব্যটি শুনবেন। কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে ইমেইল করবেন - jahanx07@gmail.com ।

যখন আমি মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া সূত্রকে শিশুর attributes এর সাথে একীভূত করতে সমর্থ হই, তখন আমার পক্ষে একটি সেট অফ রেমেডি নির্বাচন করা সম্ভব হয়। 

জনমত: তরুণ মা-বাবার স্বার্থে আপনাকে একটা অনুরোধ করছি। একটি শিশুর কি কি লক্ষণ বা সিম্পটমস পর্যবেক্ষণ করতে হবে যাতে করে তারা বুঝতে পারবে যে তাদের শিশু অটিজম আক্রান্ত? যদিও এ বিষয়ে আপনি আগে আলোকপাত করেছেন অন্যান্য বক্তব্যে তবু সবার অবগতির জন্য যদি আবার বলেন, তাহলে হয়তো যারা না জেনেছেন তারা জানতে পারবেন!

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: অবশ্যই! মা-বাবাকে নিচে প্রদত্ত সিম্পটম সমূহ অবশ্যই লক্ষ  করতে হবে।

অটিজম এর মূল সিম্পটমস বা লক্ষণগুলো সম্পর্কে বাবা-মাদের ভালো ধারণা থাকতে হবে। এবং তাদের শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। শিশুর ১৮ মাস থেকে ৩০ মাস এর মধ্যে মা-বাবাকে বুঝতে হবে যে তার শিশু অটিজম আক্রান্ত কি-না।

১. ব্যবহারিক ও মানবিক বিকাশের দিক থেকে শিশুটি অন্যান্য শিশুর চাইতে ভিন্ন হবে, শিশুটি অদ্ভুত ব্যবহার করবে! নিজেকে আড়াল করে রাখতে চাইবে! শিশুটি একাকীত্ব পছন্দ করবে;

২. শিশুকে আই-কন্টাক্ট (চক্ষু সংযোগ ) এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রধানত অটিজম আক্রান্ত  শিশুরা দ্রুত চক্ষু সংযোগ লস করতে থাকবে।

৩. স্বাভাবিক শিশু ১৮ মাসের মধ্যেই কথা বলতে পারে এবং ইমোশন শো করতে পারে যা অটিজম আক্রান্ত শিশুরা পারে না।

৪.  শিশু ১২ মাস বয়সের মধ্যে তাদের নাম বলতে পারবে না। অটিজম আক্রান্ত শিশু নিজেকে সকলের কাছ থেকে দূরে রাখতে এবং নিজেকে একাকিত্বের মধ্যে নির্বাসিত করে রাখতে সচেষ্ট থাকে।

৫. অত্যন্ত অস্থির ও নিজেকে ক্ষতিকর আঘাত করে। কোনো একটি জায়গায় সে বসে থাকতে পারে না।

৬. সাধারণ শিশু সুলভ - বুদ্ধিমত্তা তাদের থাকে না। কোনো রকম শিশু-সুলভ দুষ্টামি এবং বুদ্ধিমত্তা তাদের মধ্যে প্রকাশ পাবে না।

৭. কগনিটিভ - বা বোধ ও বুদ্ধি সম্পন্ন অনুধাবন ক্ষমতা এই শিশুদের লোপ পায়। তাদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা থাকে না।

৮. কোনো কোনো শিশুর ইকোলালিয়া - তাকে যা বলা হয় সে তা-ই একমাত্র বলতে পারবে। অন্য কিছু বলতে বা উচ্চারণ করতে পারবে না, একই কথা বার বার বলবে

৯. অনেক অটিজম আক্রান্ত শিশু অনেক সময় গায়ে কাপড় রাখতে পারে না। তারা জনসমক্ষে গায়ের কাপড় খুলে ফেলে এবং বাবা- মা কে সামাজিক ভাবে অপ্রস্তুত করে ফেলে।

১০. অপ্রয়োজনে মা-বাবাকে মারধর করবে, ছোট ভাই-বোনকে মারধর করবে

১১. রিপিটেটিভ ব্যবহার সহ শুধু মাত্র অকৃতির ঢঙে কথা বলবে কোনো কোনো অটিজম আক্রান্ত শিশু হাতের আংগুলগুলি বাতাসে ফ্ল্যাপিং করে।

১২.  অটিজম আক্রান্ত শিশুদের গ্রস (যেমন ফুটবল খেলা, ট্রাই-সাইকেল চালান) ও ফাইন মোটর (যেমন  তিন আঙুলে কলম ধরা) সক্ষমতা থাকে না। শিক্ষা গ্রহণ ও প্রতিদিনের কর্ম সম্পাদনের জন্য এগুলি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

১৩. বিকল্প চিন্তা করা (অল্টারনেটিভ) তাদের পক্ষে অসম্ভব

১৪. অল্পতে বিরক্ত হবে, ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাবে

১৫. শ্রবন ও দৃষ্টি সংক্রান্ত গোলযোগ ঘটবে

১৬. ব্যালান্সড সোশ্যাল ব্যবহার তাদের পক্ষে সম্ভব নয়

১৭.  দিনকাল ও ক্ষণ সম্পর্কে অপর্যাপ্ত খেয়াল থাকবে

১৮.  ভয় ও ব্যাথা অনুধাবনে ব্যর্থতা

১৯. সাধারণ খাবার না খেতে পারা, তরল ও পেস্টেড খাবার গ্রহণ এর স্বভাব ও অভ্যাস থাকবে

২০. ক্রমাগত একই ধরনের মোশন (রিপিটিটিভ মোশনস) ও  কাজ করতে থাকবে

২১. একই বয়সের শিশুদের দৈহিক সংযোগ এড়িয়ে যাবে

২২. অযুক্তিক প্রশ্ন, অসম্পর্কিত, অসংলগ্ন  উত্তর করবে

২৩. কোনো আকর্ষণীয় বস্তুকে তর্জনী দিয়ে দেখতে পারবে না ১৪ মাস বয়সের মধ্যে

২৪. কল্পনা করে খেলা করতে পারবে না (যেমন একটা অ্যাকশন ফিগার এর সাথে খেলা করবে না ১৮ মাসের ভেতর)

২৫. ১৮ মাস এর পর থেকে ৩ বৎসর এর মধ্যে যথাযত কথা ও অভিব্যক্তি প্রকাশ পাবে না

জনমত: ধন্যবাদ,  সূর্যের এর অটিজম এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম এর কাহিনী ও তার মা-বাবার ঐকান্তিকতা সত্যি-সত্যিই একটি বিশাল ব্যাপার! আমরা অভিভূত! আপনার ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! আজকাল মা-বাবাদের অনেক প্রশ্ন! দ্রুত অটিজম হতে মুক্তি চান তারা! আপনি তাদের কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেন কি? আপনার চিকিৎসায় বিভিন্ন বয়সের শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন ফল লাভ করে! কিন্তু কেন? একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: অবশ্যই! শিশুদের CNS গঠনপ্রক্রিয়া মায়ের গর্ভে ভ্রূণ বিকাশ এর সময় থেকে ৫ বৎসর বয়সের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে। সেজন্য চিকিৎসকেরা আর্লি ইন্টারভেনশন এর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমার চিকিৎসায় (যে শিশুরা  আমার চিকিৎসা গ্রহণ করেছে,) তার মধ্যে:

- ২-৫ বৎসরের অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৮০-৮৫% শিশুদের উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে

- ৭-১২ বৎসরের অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৪০%  শিশুদের উন্নয়ন করা সম্ভব  হয়েছেশিশুর বয়স ৫ এর উপর হয়ে গেলে সময় অনেক বেশি লাগে।

মা-বাবাদের এনগেজমেন্ট বেশি প্রয়োজন হয়। আর অটিজমের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তার কথাটা প্রাসংগিক হয় কি? কারণ, যে রোগের চিকিৎসাই নাই, সে রোগের চিকিৎসার নিশ্চয়তা চাওয়াটা কি সঙ্গত? আমি সকলকে ঐকান্তিক হতে বলবো, সাধনা করতে বলবো!

এটা সাধনার ব্যাপার, আমার ওয়েব সাইটে অনেক উদাহরণ আছে যে শিশুরা আরও কম সময়ের মধ্যে উন্নতি লাভ করেছে! সেগুলি পড়তে এবং অনুসরণ করতে অনুরোধ করছি! লক্ষ্য করে দেখবেন, আজকাল এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসারই নিশ্চয়তা নাই, ডাক্তার প্রথমে একটি এন্টিবায়োটিক লিখে দিয়ে কিছু বলেন না। তারপরে কাজ না হলে আরেকটি এন্টিবায়োটিক বদলে দেন, ব্যাস!

আমার চিকিৎসাতে ৫০ টির উপরে শিশু অনেক উন্নতি লাভ করেছে। আমার ৩০ বৎসরের অভিজ্ঞতা, অনেক মা-বাবা আমাকে তাদের টেস্টিমোনিয়াল প্রদান করেছেন, সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন অন্য সকল মা-বাবাকে উৎসাহ দেবার জন্য...এর পরে আর তো কোনো নিশ্চয়তা দেয়া যায় কি, আপনিই বলুন? তবে, মা-বাবা কনভিন্সড না হলে আমি চিকিত্সা দেই না। আর অকারণ মূল্যবান সময় ও অর্থের অপচয় আমি পছন্দ করি না।

আর খেয়াল রাখতে হবে, এটা আমার প্রাকটিসের একটি নীতি যে, যদি আমি শিশুর উপকার করতে না পারি সে শিশুটিকে আমি আমার চিকিৎসার মধ্যে আনি না। তবে, আমার  বিনীত অনুরোধ, যে মা-বাবা কে প্রচুর সময় দিতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে, আমি চাইলাম আর অটিজম সেরে গেলো এটা কল্পনা বিলাস মাত্র! এটা জাদু টোনা নয়! এটা একটি দুরূহ প্রচেষ্টা এবং চেষ্টা না করে, আমার শিশু ঔষুধ খেয়ে ভালো হয়ে যাবে এটা বাতুলতা মাত্র! এটা শুনে যদি কেউ সত্যিকার ভাবে ঐকান্তিকতা নিয়ে তার শিশুর চিকিৎসা করতে এগিয়ে আসেন, তারা ওই ৫০ টি ম-বাবার মতো উপকৃত হতে পারেন।

জনমত: ধন্যবাদ। এখন আপনার কাহিনীতে ফেরা যাক। নিউইয়র্কের অটিজম আক্রান্ত শিশুটিকে আপনি কিভাবে পেলেন, কিভাবে তার কাছে পৌঁছালেন। আপনার সাথে তাদের পূর্ব পরিচয় ছিল কি?

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: সংক্ষেপে বলছি। সূর্য একটি ২ বৎসর ৫ মাসের একটি শিশু। তার মা (এরিনা) ও বাবার (তুহিন) সাথে সে নিউইয়র্কের কুইন্সে বাস করতো। বাবা একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, মা বিজনেস এনালিস্ট। আমি সূর্য এর মাকে সেই ছোটবেলা থেকে চিনি। তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমানে কানাডায় বসবাস করেন। তাকে আমি বড় ভাই এর মতো শ্রদ্ধা করি এবং জানি। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত কবি। আমি তাকে কবি ভাই বলে ডাকি।

২ হাজার ১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগে আমি কবি ভাই এর একটি কল পেলাম। ফোনের ওপাশে তিনি অঝোরে কাঁদছিলেন। আমি তখন ফোর্ট মাকমারেতে (আলবার্টা, কানাডা) থাকি। তিনি জানালেন সূর্য নাকি অটিজম আক্রান্ত হয়েছে। আমি যে অটিজম চিকিৎসা করি কবি ভাই জানেন। সারা পৃথিবীতে হাতে গোনা যে কয়জন আমার এই ক্ষমতার কথা জানে তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি আমার জন্য একটি  টিকেট বুক করলেন তাৎক্ষণিক!

আমি ১৫ ই অক্টোবর ২০১৪ রাত ১০ টার সময় নিউইয়র্ক এর লাগার্ডিয়া বিমান বন্দরে নামি। ১০টা ২৫ মিনিটে  এরিনা ও তার স্বামী তুহিন আমাকে রিসিভ করে। প্রথম দেখা ২৪ বৎসর পর। আমাকে সালাম করে কেঁদে উঠলো এরিনা। আমি তাকে সান্তনা দিয়ে বললাম, আগে চলো যাই সূর্যকে দেখি।

প্রায়  এগারোটার সময় কুইন্স এ  বাসায় পৌঁছে তাদের সাথে বসলাম। শিশু সূর্যকে আমি দেখলাম। তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিলো। আমার সামনেই সূর্য দু দু বার বমি করলো। তাকে সলিড খাবার খাওয়ানো যেত না। চক্ষু সংযোগ ধরতে গেলে সে জিরো অবস্থানে ছিল। কোন এটেনশন ছিল না। কথা বলার মধ্যে সে ‘ডাইকিন ডোনাট’ এই কথাটি বলতে পারত। সাইনবোর্ড দেখলে ও বুদ্ধিবৃত্তি সহ ইমিটেশন ও কপি করবার কোনো ক্ষমতা  তার মধ্যে ছিল না। আমার বিচারে সে একটি জটিল অটিজম শিশু হিসেবে বেড়ে উঠছিলো। তার ফিজিক্যাল মেটাবলিজম ও নিউরো-মেটাবলিজম এর মধ্যে চরম ইমব্যালেন্স বিরাজ করছিলো এবং বিপদজনক পরিস্থিতির দিকে সূর্য ধাবিত হচ্ছিলো।

জনমত: সূর্যকে প্রথম দেখার পর আপনার প্রতিক্রিয়া কী ছিল? আপনি পেরেন্টসকে কিভাবে টেকল করলেন, কিভাবে তাদেরকে আপনার চিকিৎসার পরিমন্ডলে মধ্যে আনলেন। একটু বিশদ জানাবেন, কারণ এটা জানলে অন্য তরুণ মা-বাবাদেরও বিষয়টি বুঝতে সাহায্য হবে।

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: ‘সূর্য’ খুব গভীর অটিজম আক্রান্ত ছিল। আমি যদিও প্রথমে একটু বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। এরিনাকে একজন তরুণ মা হিসাবে আমি ধন্যবাদ দেই এ কারণে যে সে এত দ্রুত বিষয়টি ধরতে পেরেছে এবং তার বাবাকে বলেছে। সে রাতে আমরা অনেক ক্ষণ জেগে ছিলাম। কেন মনে হলো, এই  তরুণ যুগলকে আমার আশার বাণী শোনাতে হবে। আমি বোধহয় এই শিশুটিকে রক্ষা করতে পারব।