img

ঘরের সৌন্দর্য বাড়াবে যে সব গাছ

প্রকাশিত :  ০৮:৫৩, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঘরের সৌন্দর্য বাড়াবে যে সব গাছ

জনমত ডেস্ক: ঘরনির স্বপ্ন বেশ সাজানো গোছানো ছিমছাম ছোট্ট একটা বাসা। আভিজাত্যের বাড়াবাড়ি না থাকলেও যেখানে স্বস্তি মিলবে ষোলআনা। প্রয়োজন আর শৌখিনতা দুটোকেই প্রাধান্য দিয়ে ঘর সাজানোর পরিকল্পনা আঁটে অধিকাংশ মানুষ। কেননা ঘর তো সেটাই, যেখানে শান্তি খুঁজে পাওয়া যাবে আর ফেলা যাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস।

নিঃশ্বাস নেয়ার প্রসঙ্গ এলেই সবুজ গাছের কথা মনে পড়বে নিশ্চয়ই? অন্দরের সৌন্দর্যকথা ভেবেই শৌখিন গৃহিণী কিন্তু ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে আসবাবের মতো প্রয়োজনীয় তালিকায় ফেলেন গাছের নামও। কেননা খুবই বেমানান মনে হবে, যদি সাজানো গোছানো ছিমছাম বাড়িটিতে প্রাণ না থাকে এতটুকু।

রুচিশীল গৃহিণী মাত্রই ঘরের সৌন্দর্য নিয়ে ভাবেন অনেকটুকু। আর তিনি যদি হন বৃক্ষপ্রেমী, তবে তো কথাই নেই। ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপাদানের ক্ষেত্রে নজর যাবে প্রথমেই গাছের দিকে। ঘরের ভেতর সবুজের ছোঁয়া একটু না থাকলেই নয়। একটা সময় গাছ স্থান পেত শুধু বারান্দায়। সেই সময় পাল্টেছে। অল্প আলোয় বাঁচে, এমন গাছ জায়গা করে নিয়েছে অন্দরের ভেতর।

তাই ঘর সাজাতে কিংবা ঘরের ভেতর একটু প্রাণের ছোঁয়া বুলিয়ে দিতে ছোট্ট ইনডোর প্লান্টের জুড়ি নেই বললেই চলে। একদিকে ঘরের ভেতর সবুজের উপস্থিতি ঘরের পরিবেশটাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। অন্যদিকে ভেতরের সৌন্দর্যটাকে অতিমাত্রা দিতেও বেশ সহায়ক। তাজা নিঃশ্বাস নিতেই হোক কিংবা ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনেই হোক, ছোট ছোট ইনডোর প্লান্ট এখন সব বাড়িতেই চোখে পড়ে।

চোখের সামনে সবুজ চোখকে প্রশান্তি দেবে নিশ্চিতভাবেই। আর এজন্য অনেক আগে থেকেই বাড়ির সামনে একটু জায়গা থাকলেও সেখানে বাগান করার রীতি বেশ প্রচলিত ছিল। ইট-পাথরের শহরে বাড়ির সামনে খোলা জায়গা পাওয়া কঠিন বিষয় বর্তমানে। তাই বৃক্ষপ্রেমীরা বাগান করেন বারান্দায়। বাড়ির বাগানের পর ঘরের বারান্দায় গাছ রাখা অনেকটা শখের পর্যায়েই ছিল।

কিন্তু এখন শুধু বারান্দায়ই নয়, ছোট ছোট গাছ স্থান পাচ্ছে বসার ঘর থেকে শুরু করে বাড়ির প্রায় প্রতিটি স্থানে। অন্দরে গাছ রাখার ক্ষেত্রে এর যত্ন-আত্তি জেনে রাখাটাই উত্তম। আর গাছ নির্বাচনের আগে অবশ্যই কথা বলে নিন একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের সঙ্গে। কেননা কোন স্থানে কেমন গাছ রাখাটা উত্তম, কোথায় গাছ রাখলে ঘরের সৌন্দর্যে ভাটা পড়বে না, এসব জেনেই গাছ নির্বাচন করুন।

আপনার বসার ঘরটাতে রাখবেন পছন্দসই গাছ। এজন্য বাজার থেকে গাছ কিনে বাড়িতে নিয়েও এলেন। কিন্তু কয়েক দিন পরই দেখলেন ওই গাছটির সঙ্গে সঙ্গে ওই ঘরে রাখা অন্যান্য গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ খুঁজতে গিয়েই ধরা পড়ল নতুন আনা গাছটিতে থাকা কীট নষ্ট করে ফেলেছে ওই গাছটিসহ অন্যগুলোকে। তাই গাছ কেনার আগে একটু সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখুন গাছটি কীট দ্বারা কিংবা কোনো রোগে আক্রান্ত কিনা।

গাছ না হয় আনা হলো, তবে জায়গা নির্ধারণ করেছেন কি, যেখানে রাখা হবে নতুন গাছটি? এমন স্থান নির্ধারণ করুন গাছ রাখার জন্য, টেলিভিশন, রিফ্রিজারেটর কিংবা এয়ারকন্ডিশনারের রেডিয়েশনে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। পর্দার আঘাতে যাতে গাছের প্রাণনাশ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখবেন। অতিরিক্ত গরম কিংবা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা জায়গাও পরিহার করুন গাছ রাখার ক্ষেত্রে।

কোন গাছ কেমন তাপমাত্রায় বাড়ে, কতটুকু সূর্যের আলো প্রয়োজন, সেটা জেনে নিন এবং সে অনুযায়ী গাছ রাখার ব্যবস্থা করুন। যেমন সূর্যের আলো ছাড়া বাঁচে না, এমন গাছ রাখার ক্ষেত্রে দক্ষিণমুখী জানালা বেছে নেয়াটাই উত্তম। তবে যদি অল্প আলোয় বাঁচে এমন গাছ রাখতে চান, তবে উত্তর দিকে জানালার জায়গাটুকু বেছে নিতে পারেন। কেননা উত্তর দিকের জানালা খুব কম সূর্যের আলো সরবরাহ করে।

ঘরে রাখা গাছগুলোর জন্য অনুর্বর মাটিই উত্তম। কেননা এ মাটিতে সহজে ছত্রাক জন্মাতে পারে না। ফলে ছত্রাকের আক্রমণ কিংবা গাছের অন্যান্য রোগসহ বিভিন্ন সমস্যা কমবে। সব শেষে পরিমিত পানি সরবরাহ করুন। তবে তা যেন অতিরিক্ত মাত্রায় না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।


img

ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি

প্রকাশিত :  ১৬:৫০, ১৭ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদে মাংস সংরক্ষণ নিয়ে প্রায় সব পরিবারকেই বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। বিশেষ করে দীর্ঘ ছুটি, অতিথি আপ্যায়ন ও একসঙ্গে বেশি পরিমাণ মাংস সংরক্ষণের কারণে অনেক সময় ফ্রিজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দেখা দেয়। সঠিক নিয়ম না মানলে মাংসের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই কোরবানির মাংস দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে সংরক্ষণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

ফ্রিজের খাবার আগেই গুছিয়ে রাখা

কোরবানির আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। দীর্ঘদিন জমে থাকা পুরোনো বা অপ্রয়োজনীয় খাবার সরিয়ে ফেললে নতুন মাংস সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ফ্রিজের তাপমাত্রাও ঠিকভাবে বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভরে ফেললে ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না, ফলে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মাংস সংরক্ষণে করণীয়

কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখার আগে ভালোভাবে রক্ত ঝরিয়ে নিতে হবে। মাংস ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি থাকলে তা শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা অবস্থায় সংরক্ষণ করলে বরফ জমে মাংসের স্বাভাবিক স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। এরপর পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্র কিংবা ভালো মানের ফুড-গ্রেড পলিব্যাগে ভরে সংরক্ষণ করা উচিত। খোলা অবস্থায় মাংস রাখা একেবারেই নিরাপদ নয়।

ছোট ছোট ভাগে মাংস সংরক্ষণ

মাংস বড় আকারে না রেখে ছোট ছোট ‘ফ্যামিলি প্যাক’ আকারে ভাগ করে রাখলে ব্যবহার সহজ হয়। এতে প্রতিবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস বের করা যায় এবং পুরো মাংস বারবার গলাতে হয় না। কারণ একবার গলানো মাংস পুনরায় ফ্রিজে রাখলে এর মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি বাড়ে।

কাঁচা ও রান্না খাবার আলাদা রাখা

ফ্রিজে কাঁচা মাংস কখনো রান্না করা খাবার, ফল বা সবজির পাশে রাখা উচিত নয়। কাঁচা মাংসের গন্ধ ও জীবাণু অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য ফ্রিজে কাঁচা মাংসের জন্য আলাদা একটি নির্দিষ্ট অংশ রাখা ভালো। এতে খাবারের নিরাপত্তা বজায় থাকে।

বিদ্যুৎ গেলে ফ্রিজ বেশি না খোলা

বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই অবস্থায় ফ্রিজ বারবার খোলা ঠিক নয়। ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে দীর্ঘ সময় ভেতরের ঠান্ডা তাপমাত্রা বজায় থাকে এবং খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।

কতদিন পর্যন্ত ভালো থাকে মাংস 

সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে কোরবানির মাংস সাধারণত ফ্রিজারে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাখলে ধীরে ধীরে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ কমতে শুরু করে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাংস ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।